তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক
‘পালাঙ্ক’ থেকে ‘পালকি’
যে কোনো সংস্কৃতির বাহন বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পেছনে থাকে তার নামের ইতিকথা। ‘পালকি’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, ফারসি ‘পালাঙ্ক’ (Palang) শব্দ থেকে প্রাকৃত ও তৎসংলগ্ন ভাষার হাত ধরে বাংলা ভাষায় এসেছে ‘পালকি’ শব্দটি। পালঙ্কের মূল অর্থ হলো খাটিয়া, তক্তপোশ বা শয়নমঞ্চ। যেহেতু পালকি মূলত কাঁধে বহন করার মতো একটি আরামদায়ক শয়ন বা উপবেশন ক্ষেত্র, তাই এর নাম এমনটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতবর্ষে মুঘল আমল থেকেই মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ও বিস্তৃত পরিসরে পালকির প্রচলন শুরু হয়। এর আগে প্রাচীন ও মধ্যযুগেও বিভিন্ন ধরনের ডুলি বা শিবিকার ব্যবহার ছিল, যার প্রমাণ আমরা রামায়ণ-মহাভারত কিংবা প্রাচীন ভাস্কর্যে পাই। তবে মুঘল আমলে এসে পালকি একটি সুসংগঠিত রাজকীয় ও আভিজাত্যের বাহনে রূপ নেয়। মুঘল সম্রাট, সুবেদার, নবাব, জমিদার এবং পরবর্তী সময়ে উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এই বাহনটির প্রধান ব্যবহারকারী ছিলেন।
একসময় রাজকীয় রীতি এবং শিষ্টাচারের অন্যতম প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই পালকি। বিশেষ করে বাংলার স্বাধীন ও অর্ধস্বায়ত্তশাসিত নবাবদের আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত অভিজাত সমাজে পালকি ছাড়া চলাফেরা কল্পনাই করা যেত না। এটি ছিল সেই সময়ের ‘লিমোজিন’ বা আলিশান গাড়ি, যা দেখে সাধারণ মানুষ দূর থেকেই বুঝতে পারত কার আগমন ঘটছে।
“পালকি চলে! পালকি চলে!
গগন তলে, আগুন জ্বলে।”
বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অমর এই পঙ্ক্তিগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠলেই মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে এক অপূর্ব দৃশ্যপট। ছয়জন বেহারার কাঁধে দুলতে থাকা পালকি, তার ওপর দুপুরের তীব্র রোদের তাপ, আর চাকাবিহীন সেই বিলাসবহুল রাজকীয় বাহনে বসে থাকা সম্ভ্রান্ত পরিবারের কোনো নারী বা পুরুষ। অথবা বিশ্বসাহিত্যের মুকুটহীন সম্রাট কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার সেই চিরচেনা সুর—
“মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে
দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে...”
এই পঙ্ক্তিগুলো কেবল কিছু অক্ষরের মালা নয়; এগুলো একেকটি টাইম মেশিন, যা আমাদের এক নিমিষে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এমন এক অতীতে, যেখানে যান্ত্রিকতার কোলাহল ছিল না, ছিল ধীরস্থির গতিময়তা, মানুষের সাথে মানুষের নিবিড় সংযোগ এবং আভিজাত্যের এক শৈল্পিক রূপ। ছন্দে, কবিতায় আর লোকগীতির সুরে পালকি যতটুকুই বন্দনা পাক না কেন, ঐতিহাসিক সত্য হলো— পালকি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম ছিল না; এটি ছিল বাঙালির সমাজজীবনে অভিজাত শ্রেণীর অহংকার, সম্ভ্রান্ত নারীদের সামাজিক মর্যাদার মুকুট এবং আবহমান বাংলার লোকজ জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যদি আমরা চারপাশ তাকাই, তবে দেখব পালকি নেই। কাচঘেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি, দ্রুতগামী মোটরযান কিংবা সুপরিসর বিমান আমাদের যাতায়াতকে করেছে সহজ ও গতিশীল। পালকি আজ হারিয়ে গেছে মহাকালের গর্ভে। তার জায়গায় আছে কেবল পুরনো কিছু স্মৃতি, রূপকথার গল্প, আর দেশের কোনো কোনো লোকজ জাদুঘরের কোণে ধুলোমাখা অবস্থায় পড়ে থাকা কিছু কাঠের প্রাচীন কাঠামো। কিন্তু এই কাঠের কাঠামোটির আড়ালে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, বাঙালির সংস্কৃতি এবং এক বর্ণিল অধ্যায়।
আভিজাত্যের প্রতীক এবং সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি
পালকি কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার কোনো সাধারণ বাহন ছিল না; এটি ছিল সম্মান, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি এবং রুচির বহিঃপ্রকাশ। বাংলার গ্রামীণ সমাজে জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বারে বা বৈঠকখানার সামনে সারি দিয়ে পালকি থাকা মানেই ছিল সেটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তির নগ্ন প্রদর্শন।
সেই যুগে কোনো জমিদার বা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি যখন এলাকা পরিদর্শনে বের হতেন, তখন তাদের সুসজ্জিত পালকি বহন করতেন পেশাদার ও শক্তিশালী বেহারারা। পালকির সাথে থাকত লাঠিয়াল বাহিনী, মশালচি এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে চলা সহচররা। সাধারণ প্রজারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে সেই শোভাযাত্রা দেখত। এটি ছিল ক্ষমতার এক নীরব অথচ প্রবল প্রদর্শন।
নারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে পালকি ছিল পর্দার ও আভিজাত্যের প্রধানতম মাধ্যম। তৎকালীন রক্ষণশীল ও কুলীন সমাজে সম্ভ্রান্ত ঘরের নারীদের ঘরের বাইরে পা রাখতে হতো পর্দার আড়ালে। সাধারণ মানুষের চোখের অন্তরালে তাদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে পালকি ছিল একমাত্র উপায়। বিশেষ করে বিয়ের মতো সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে পালকির ব্যবহার ছিল বাধ্যতামূলক এবং অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ।
গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বরযাত্রী যাওয়ার সময় বা নতুন কনেকে শ্বশুরবাড়ি বরণ করে নেয়ার সময় কনের জন্য বিশেষভাবে সাজানো হতো লাল শালুতে মোড়ানো ‘বউ পালকি’। নতুন কনে যখন লাল বেনারসি পরে লজ্জিত মুখে পালকি থেকে নামতেন, তখন পুরো গ্রামের মানুষের কৌতূহলী ও শ্রদ্ধালু দৃষ্টি থাকত সেই পালকির দরজার দিকে। কনের পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন, তা বিচার করা হতো পালকির কারুকার্য এবং বেহারার সংখ্যা দেখে। চার বেহারা বা আট বেহারার পালকি বহন করা ছিল পারিবারিক মর্যাদার অন্যতম মাপকাঠি।
বেহারা সম্প্রদায় : রক্ত ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আভিজাত্য
যে কোনো রাজকীয় বা আভিজাত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তার পেছনের মূল ভিত্তিটি গড়ে তোলেন সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষেরা। পালকির ইতিহাসও এর ব্যতিক্রম নয়। পালকি তো নিজে নিজে চলত না; একে বহন করতেন একদল কঠোর পরিশ্রমী মানুষ, যাদের বলা হতো ‘বেহারা’ বা ‘কাহার’।
বেহারারা মূলত সমাজের অনগ্রসর ও নিম্নবর্গীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা প্রখর গরম— কোনো কিছুই তাদের থামিয়ে রাখতে পারত না। মাথায় গামছা বেঁধে, শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ভারী কাঠের পালকি কাঁধে তুলে নিয়ে তারা মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতেন। তাদের ছন্দবদ্ধ পদচারণা এবং মুখের বিশেষ সুর বা হুংকার— যেমন “হেইও সইও... হুহাঁ...”— দূর থেকে ভেসে আসত।
এই পেশাটি ছিল অত্যন্ত কায়িক শ্রমের এবং শারীরিকভাবে চরম কষ্টদায়ক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, যারা আভিজাত্যের এই প্রতীকটিকে বহন করতেন, সমাজ তাদের নাম খুব একটা মনে রাখেনি। অভিজাত ব্যক্তিরা ভেতরের গদিআঁটা আসনে বসে আরামদায়ক সফর করতেন, আর বাইরে রোদে পুড়ে, পিঠের চামড়া ছালিয়ে সেই বাহন এগিয়ে নিয়ে যেতেন বেহারারা। তা সত্ত্বেও, বেহারা সম্প্রদায় বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। তাদের জীবনযাত্রা, তাদের লোকসংগীত এবং তাদের পারস্পরিক বন্ধন আমাদের লোকসাহিত্যের এক গভীর উপাদান।
যান্ত্রিকতার আগমন এবং পালকির বিলুপ্তি
সব ভালো জিনিসেরই যেমন একটি শেষ থাকে, তেমনি শত শত বছর ধরে চলা পালকির রাজত্বেও একদিন যবনিকা পতন ঘটে। উনিশ শতকের শেষার্ধে এবং বিশ শতকের শুরুতে ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। এরপর আসে মোটরযান, বাস, স্টিমার এবং পরবর্তীতে ব্যক্তিগত গাড়ি। যাতায়াত ব্যবস্থার এই অভূতপূর্ব বিপ্লব মানুষের সময় ও দূরত্বের ধারণাকে পাল্টে দেয়। যে দূরত্ব অতিক্রম করতে পালকিতে করে কয়েক দিন বা সপ্তাহ লেগে যেত, ট্রেন বা মোটরযান তা কয়েক ঘণ্টায় বা মিনিটে সম্ভব করে তুলল। দ্রুতগতির এই আধুনিক বাহনগুলোর সাথে পালকির কোনো তুলনাই চলে না। ফলে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল পালকির কদর।
প্রথমত অভিজাত ও জমিদার শ্রেণী আধুনিক মোটরকার বা কার্লটন গাড়ির দিকে ঝুঁকে পড়লেন। সাধারণ মানুষও কম খরচে ও দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ট্রেন ও বাসকে বেছে নিল। এর ফলে বেকার হয়ে পড়তে লাগলেন বেহারারা। পেটের টানে তারা এই প্রাচীন পেশা ছেড়ে অন্য পেশায়— যেমন কৃষিকাজ, রিকশা চালানো বা দিনমজুরিতে নিয়োজিত হতে বাধ্য হলেন। এভাবে চোখের পলকে বাংলার মাটি থেকে চিরতরে হারিয়ে গেল পালকি এবং পালকি বহনের সেই চিরচেনা সংস্কৃতি।
আজ একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দাঁড়িয়ে পালকি কেবলই একটি ইতিহাস। রাজপথে এখন আর কোনো বেহারার কাঁধে পালকি দেখতে পাওয়া যায় না। তবে আমাদের লোকজ সংস্কৃতির রক্তধারায় পালকি আজও গভীরভাবে প্রোথিত।
বর্তমানে পালকি মূলত তিন জায়গায় টিকে আছে—
১. লোকজ জাদুঘর : দেশের বিভিন্ন জাতীয় জাদুঘর, যেমন ঢাকা জাদুঘর, লোকশিল্প জাদুঘর (সোনারগাঁ) কিংবা আঞ্চলিক বিভিন্ন সংগ্রহশালায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে কাঠে তৈরি পুরনো পালকিগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। নতুন প্রজন্ম সেখানে গিয়ে দেখতে পায় তাদের পূর্বপুরুষেরা কেমন বাহনে চড়ে যাতায়াত করতেন।
২. লোকজ উৎসব ও মেলা : বৈশাখী মেলা, বসন্ত উৎসব কিংবা নানা ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা বা নাট্যশালায় প্রতীকী বা প্রদর্শনী সামগ্রী হিসেবে পালকির ব্যবহার দেখা যায়। অনেক সময় ঐতিহ্যবাহী বিয়ের অনুষ্ঠানে শৌখিনতার বশে বা ভিডিওগ্রাফির জন্য আধুনিক বা পুরনো নকশার পালকি ভাড়া করে ব্যবহার করা হয়।
৩. সাহিত্য ও লোকসংগীত : গান, কবিতা, নাটক এবং উপন্যাসে পালকি আজও অমর হয়ে আছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে গ্রামীণ বাংলার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, সেখানে পালকির উপস্থিতি ছাড়া সেকালের আবহ কল্পনা করাই অসম্ভব।
যে জাতি তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ভুলে যায়, সে জাতি শেকড়হীন বৃক্ষের মতো বাতাসে ভেসে যায়। পালকি কেবল একটি কাঠের বাক্স বা বাহন নয়; এটি আমাদের অতীত সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল। মুঘল ও ব্রিটিশ আমলের সামাজিক রূপান্তর, গ্রামীণ জীবনধারা এবং মানুষের জীবনযাত্রার বিবর্তন বুঝতে হলে পালকির ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
পালকিকে কেবল জাদুঘরের একটি মৃত বস্তু হিসেবে ফেলে না রেখে একে ঘিরে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে—
লোকজ জাদুঘর স্থাপন ও সমৃদ্ধকরণ : দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বিশেষ করে মফস্বল ও ঐতিহ্যবাহী জনপদগুলোতে লোকজ জাদুঘর গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পালকিসহ বাংলার হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র সুন্দরভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
গবেষণা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ : পালকি সংস্কৃতি, বেহারা সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিশদ গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার জন্য আকর্ষণীয় প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা যেতে পারে।
পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্কর্তিত জ্ঞান : স্কুল ও কলেজের পাঠ্যপুস্তকে বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও প্রাচীন যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রাখা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই দেশের সংস্কৃতির শিকড় সম্পর্কে জানতে পারে।
সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে পালকি হয়তো আমাদের নিত্যদিনের জীবন থেকে চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে, কিন্তু বাঙালির হৃদয়ে তার মর্যাদা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। আধুনিকতার অতিদ্রুত গতির মাঝে একটু থেমে পেছনে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই সেই ধীরস্থির, মায়াবী ও শৈল্পিক দিনগুলোকে।
আভিজাত্যের অহংকার এবং লোকজ জীবনের সোনালী প্রতীক হিসেবে পালকি ইতিহাসে চিরকাল সজীব ও অম্লান হয়ে থাকবে। তাই পালকি যেন কেবল রূপকথার বইয়ের পাতা বা কোনো এক কোণে পড়ে থাকা ধুলোমাখা কাঠের কাঠামোতে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা যেন আমাদের ইতিহাসের এক সজীব অধ্যায় হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্মে বেঁচে থাকে— সেই সচেতন প্রচেষ্টা ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের সবারই পালন করা উচিত।
তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক : কলাম লেখক ও সম্পাদক, স্বর্ণালী সাহিত্য পরিষদ