সোমবার ০১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 01, 2026
June 01, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবার সচল, নতুন হামলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে ইরান

Published: June 01, 2026 at 12:23 PM
ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবার সচল, নতুন হামলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে ইরান

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর বড় অংশই পুনরায় সচল করে ফেলেছে ইরান| স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া প্রবেশপথ ও সড়ক মেরামত করে দেশটি আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে| এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে|

সিএনএন জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথ, সংযোগ সড়ক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়| এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কার্যক্রমকে অচল করে দেওয়া| তবে যুদ্ধবিরতির পর দ্রুত পুনর্গঠন শুরু করে তেহরান| স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, বুলডোজার, ডাম্প ট্রাক এবং অন্যান্য নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত টানেল ও সড়ক পুনরুদ্ধার করছে ইরান| সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ৬৯টি প্রবেশপথে হামলা হয়েছিল| এর মধ্যে অন্তত ৫০টি প্রবেশপথ ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে|

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনরুদ্ধার প্রমাণ করছে যে শুধু টানেলের মুখে হামলা চালিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়| কারণ মাটির গভীরে সংরক্ষিত অস্ত্রভাণ্ডার এবং অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে| যুক্তরাষ্ট্রের জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার সিএনএনকে বলেন, “যতক্ষণ তাদের কাছে উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছে, ততক্ষণ তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে| এমনকি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও|” তিনি আরও বলেন, “ইরানের কাছে এখনও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে| এসব অস্ত্র ব্যবহারে তাদের বড় ধরনের কোনো বাধার মুখে পড়তে হবে না|”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য| মার্চ মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট সবকিছু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে|”

তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে| হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইস্পাহান নর্থ মিসাইল ঘাঁটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলেছে| বোমার আঘাতে ˆতরি গর্তগুলো ভরাট করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বড় অংশ আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে|

হামবুর্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক তাইমুর কাদিশেভ মনে করেন, ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে| তার ভাষায়, “তারা ২০ বছর ধরে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে| তারা অত্যন্ত প্রস্তুত|” বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোতে এখনও প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ থাকতে পারে| ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দেশটি দ্রুত পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে| এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলেছেন, “মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশে^র সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী| প্রেসিডেন্ট যখন যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান চালানোর সক্ষমতা আমাদের রয়েছে|”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুধু সামরিক সক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কৌশলগত প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা| অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব হলেও অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বাস্তবতাই সামনে এনে দিয়েছে|

সূত্র: সিএনএন