রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের ফিজিওথেরাপি সেন্টার উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ সুপার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে পুলিশ অফিস চ্যাম্পিয়ন গোমস্তাপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহত ১৮ ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দিয়ে জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ শিক্ষার মান ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাস এমপি মিজানের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাতদিনের বৃক্ষমেলা উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হারুনুর রশীদের মতবিনিময় প্রথম কোনো দক্ষিণ কোরিয়ানকে দেখা যাবে মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুসের দিকে নজর আর্সেনালের শক্তি বাড়াতে পাকিস্তান দলে দুই পরিবর্তন
Printed on: July 26, 2026
June 01, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবার সচল, নতুন হামলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে ইরান

Published: June 01, 2026 at 12:23 PM
ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবার সচল, নতুন হামলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে ইরান

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর বড় অংশই পুনরায় সচল করে ফেলেছে ইরান| স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া প্রবেশপথ ও সড়ক মেরামত করে দেশটি আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে| এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে|

সিএনএন জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথ, সংযোগ সড়ক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়| এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কার্যক্রমকে অচল করে দেওয়া| তবে যুদ্ধবিরতির পর দ্রুত পুনর্গঠন শুরু করে তেহরান| স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, বুলডোজার, ডাম্প ট্রাক এবং অন্যান্য নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত টানেল ও সড়ক পুনরুদ্ধার করছে ইরান| সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ৬৯টি প্রবেশপথে হামলা হয়েছিল| এর মধ্যে অন্তত ৫০টি প্রবেশপথ ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে|

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনরুদ্ধার প্রমাণ করছে যে শুধু টানেলের মুখে হামলা চালিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়| কারণ মাটির গভীরে সংরক্ষিত অস্ত্রভাণ্ডার এবং অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে| যুক্তরাষ্ট্রের জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার সিএনএনকে বলেন, “যতক্ষণ তাদের কাছে উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছে, ততক্ষণ তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে| এমনকি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও|” তিনি আরও বলেন, “ইরানের কাছে এখনও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে| এসব অস্ত্র ব্যবহারে তাদের বড় ধরনের কোনো বাধার মুখে পড়তে হবে না|”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য| মার্চ মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট সবকিছু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে|”

তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে| হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইস্পাহান নর্থ মিসাইল ঘাঁটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলেছে| বোমার আঘাতে ˆতরি গর্তগুলো ভরাট করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বড় অংশ আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে|

হামবুর্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক তাইমুর কাদিশেভ মনে করেন, ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে| তার ভাষায়, “তারা ২০ বছর ধরে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে| তারা অত্যন্ত প্রস্তুত|” বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোতে এখনও প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ থাকতে পারে| ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দেশটি দ্রুত পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে| এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলেছেন, “মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশে^র সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী| প্রেসিডেন্ট যখন যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান চালানোর সক্ষমতা আমাদের রয়েছে|”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুধু সামরিক সক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কৌশলগত প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা| অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব হলেও অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বাস্তবতাই সামনে এনে দিয়েছে|

সূত্র: সিএনএন