চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ৭দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলা-২০২৬-র উদ্বোধন করা হয়েছে| এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়|
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা বনবিভাগ এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে|
রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী| তিনি তাঁর বক্তব্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন| তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানান|
সামাজিক বন বিভাগ, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) মো. মিনহাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন ও সহকারী বন সংরক্ষক নায়েমা আক্তার|
সভা সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস|
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান| তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছের যত্নও নিতে হবে বলে জানান| যাতে গাছগুলো বড় হয়ে ফল দেয়, ছায়া দেয়| তারা বলেন, আসুন সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগাই, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করি এবং একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলি|
আলোচনা সভা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-র উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী| মেলায় অংশ নেয়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নার্সারিগুলোর স্টলে ফলদ, বনজ, ওষুধি ও শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে| দর্শনার্থীদের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্টলগুলোতে বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরা হয়|
এর আগে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়| র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়| র্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, পরিবেশপ্রেমী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন|