তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক নাম, যিনি কেবল কবি হিসেবেই নন, বরং একটি চেতনা, একটি সংগ্রাম এবং একটি মানবিক দর্শনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত| তিনি ছিলেন বিদ্রোহের কবি, সাম্যের কবি, মানবতার কবি| তাঁর সাহিত্যকর্মে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়েছে, তেমনি ফুটে উঠেছে নিপীড়িত মানুষের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা| তিনি সারাটি জীবন ˆবষম্য, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন| মানুষের মুক্তি, ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে সমাজ গঠনের স্বপ্নই ছিল তাঁর সাহিত্য ও দর্শনের মূল ভিত্তি|
নজরুল এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন, যখন ভারতবর্ষ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে নিপীড়িত| সমাজব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে তখন বৈষম্য ছিল প্রকট| সামন্তবাদ, জমিদারি প্রথা, শ্রেণী শোষণ, ধর্মীয় কুসংস্কার ও জাতিগত বিভাজন সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল| এই বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন নজরুল| দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অবহেলার অভিজ্ঞতা তাঁর ˆশশব থেকেই তাঁকে মানুষের দুঃখের সঙ্গে একাত্ম করে তোলে| ফলে তাঁর সাহিত্য নিছক কাব্যচর্চায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ভাষা|
নজরুল বিশ্বাস করতেন— যা কিছু মানুষের জন্য সুন্দর, মহৎ ও কল্যাণকর, তাই ধর্ম| তাঁর এই উপলব্ধি তাঁকে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে তুলে এনেছিল| তিনি কখনো ধর্মকে বিভেদের হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি| বরং ধর্মকে দেখেছেন মানবকল্যাণের পথ হিসেবে| তাই তাঁর সাহিত্যজুড়ে আমরা মানবতাবাদী এক গভীর চেতনার পরিচয় পাই| তিনি লিখেছিলেন—
“গাহি সাম্যের গান—
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান|”
এই উচ্চারণ কেবল কবিতার পংক্তি নয়; এটি ছিল তাঁর জীবনদর্শনের সারকথা| তিনি এমন একটি সমাজ কল্পনা করেছিলেন, যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না; ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী কিংবা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেউ বঞ্চিত হবে না|
নজরুলের সাহিত্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর রচনার মূল সুর দুটি— একদিকে সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, অন্যদিকে মানুষের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা| তাঁর কবিতা, গান, গল্প, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ কিংবা চিঠিপত্র— সবখানেই এই দুই চেতনার প্রতিফলন স্পষ্ট| তিনি নিপীড়িত মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে অনুভব করেছেন| তাই তাঁর সাহিত্য কখনো কেবল নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর|
তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য সৃষ্টি| সেখানে তিনি কেবল ব্যক্তিগত বিদ্রোহের কথা বলেননি; বরং যুগযুগান্তরের শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদকে তুলে ধরেছেন| তিনি উচ্চারণ করেছিলেন—
“বল বীর—
বল উন্নত মম শির!”
এই উচ্চারণ ছিল আত্মমর্যাদার ঘোষণা| পরাধীন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে তিনি ভাষা দিয়েছিলেন| নজরুলের বিদ্রোহ ধ্বংসের জন্য ছিল না; তাঁর বিদ্রোহ ছিল মানবমুক্তির জন্য|
নজরুল ছিলেন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবতা ও সুবিচারের কবি| তিনি রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির কথাও বলেছেন| তিনি বুঝেছিলেন, কেবল শাসকের পরিবর্তন মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে না; প্রয়োজন ˆবষম্যহীন সমাজব্যবস্থা| তাই তিনি বুর্জোয়া ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন| তাঁর কাব্যে বারবার উঠে এসেছে শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম| ‘কুলি-মজুর’ কবিতায় তিনি লিখেছেন—
“দেখিনু সেদিন রেলে
কুলি বলে এক বাবুসাব তারে টেনে দিল নিচে ফেলে
চোখ ফেটে এলো জল
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল|”
এই কয়েকটি পংক্তিতেই ফুটে উঠেছে তাঁর মানবিকতা ও শ্রেণীবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ| তিনি সমাজের সেই মানুষদের কথা বলেছেন, যাদের কণ্ঠস্বর কেউ শুনতে চায় না| কুলি, মজুর, কৃষক, শ্রমিক, অবহেলিত নারী— এদের জীবনসংগ্রামই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল|
নজরুল মানুষকে জাতির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন| তিনি বুঝেছিলেন, মানুষকে বিভক্ত করে রাখা শাসকগোষ্ঠীর অন্যতম কৌশল| তাই তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঐক্যের কথা বলেছেন| তাঁর সাহিত্যজুড়ে অসাম্প্রদায়িকতার এক শক্তিশালী বার্তা রয়েছে| তিনি হিন্দু ও মুসলমান উভয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমানভাবে গ্রহণ করেছিলেন| তাঁর ইসলামী গান যেমন জনপ্রিয়, তেমনি শ্যামাসংগীতও সমানভাবে সমাদৃত| এই ˆবচিত্র্যের মধ্য দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন— মানবতা ধর্মের চেয়েও বড়|
নজরুলের সময় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল| ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী “ভাগ করো এবং শাসন করো” নীতির মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান বিভাজনকে উসকে দিচ্ছিল| কিন্তু নজরুল এই বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন| তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করা মানবতার পরিপন্থী| তাই তিনি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন| তাঁর সাহিত্য আজও আমাদের সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়|
নারী স্বাধীনতা ও নারীর মর্যাদার প্রশ্নেও নজরুল ছিলেন অত্যন্ত প্রগতিশীল| সে সময়ের সমাজে নারীরা ছিল অবহেলিত ও বঞ্চিত| কিন্তু নজরুল নারীকে কখনো দুর্বল বা গৌণ হিসেবে দেখেননি| বরং তিনি নারীকে সমাজের সমান অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন| তার ‘নারী’ কবিতার বিখ্যাত পংক্তি—
“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর|”
এই উচ্চারণ ছিল নারী-পুরুষ সমতার এক যুগান্তকারী ঘোষণা| তিনি বুঝেছিলেন, সমাজে প্রকৃত সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি|
নজরুলের সাহিত্যচর্চা ছিল মানবমুক্তির আন্দোলনের অংশ| তিনি কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে ছিলেন| তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের মন মুক্ত না হলে সমাজের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়| তাই তাঁর লেখায় যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের শক্তিশালী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়|
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে নজরুলের চেতনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে| পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ˆবষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে বাঙালির যে সংগ্রাম, তা ছিল মূলত অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির আন্দোলন| নজরুলের সাম্যের ধারণা খুব সহজেই বাংলাদেশের মানুষের চেতনার সঙ্গে একাকার হয়ে যায়| তাঁর গান ও কবিতা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল| বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনায় অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও মানবমুক্তির যে মূল্যবোধ রয়েছে, নজরুল তাঁর অন্যতম প্রধান ধারক|
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়| এটি শুধু সাহিত্যিক সম্মান নয়; বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে তাঁর চেতনার মিলের স্বাকৃতি| কারণ তিনি যে সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সমাজের ভিত্তি ছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবতা|
কিন্তু প্রশ্ন হলো— আজ আমরা কতটা নজরুলের আদর্শ অনুসরণ করছি? স্বাধীনতার এত বছর পরও সমাজে ˆবষম্য রয়ে গেছে| অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে, ধনী-গরিবের ব্যবধান ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে| ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক অবিচার নতুন নতুন রূপে ফিরে আসছে| শ্রমজীবী মানুষ এখনো বঞ্চিত, নারী এখনো নির্যাতনের শিকার, দুর্বল মানুষ এখনো ক্ষমতাবানদের হাতে অপমানিত হচ্ছে|
এই বাস্তবতায় নজরুলের সাহিত্য আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়| তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন— মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়নই অর্থবহ নয়| কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে মানবিক সমাজ গড়া যায় না; প্রয়োজন ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতা|
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তব্যে বিভাজনের যে সংস্কৃতি ˆতরি হয়েছে, তা নজরুলের আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত| তিনি কখনো ঘৃণার রাজনীতি সমর্থন করেননি| বরং তিনি ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবিক ঐক্যের কথা বলেছেন| তাঁর সাহিত্য আমাদের শেখায়— ধর্ম কিংবা মতাদর্শের ভিন্নতা মানুষকে শত্রু বানায় না; বরং মানবিকতার অভাবই মানুষকে বিভক্ত করে|
আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে নজরুলকে নতুনভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন| অনেক সময় তাঁকে শুধু ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবেই সীমাবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হয়| অথচ তাঁর সাহিত্যচেতনার বিস্তৃতি অনেক গভীর| তিনি ছিলেন প্রেমের কবি, মানবতার কবি, সাম্যের কবি, শ্রমজীবী মানুষের কবি| তাঁর সাহিত্য আমাদের কেবল প্রতিবাদ করতে শেখায় না; বরং মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়|
নজরুলের সাহিত্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব চাননি; তিনি চেয়েছিলেন মানুষের চিন্তার বিপ্লব| তিনি চেয়েছিলেন এমন এক সমাজ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে এবং মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে| তাঁর সাহিত্য আমাদের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার শিক্ষা দেয়|
তাঁর ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল| এজন্য তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছিল| কিন্তু কারাগারেও তিনি মাথা নত করেননি| তার ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির এক ঐতিহাসিক দলিল| সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন— অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম কখনো থামবে না|
এই আপসহীনতা নজরুলকে অনন্য করে তুলেছে| তিনি ক্ষমতার কাছে নত হননি; বরং সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন| তাঁর সাহিত্য আজও আমাদের সাহস জোগায়— সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে এবং মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখতে|
বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও অর্থনৈতিক শোষণ বেড়ে চলেছে, তখন নজরুলের সাম্যের বাণী আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে| পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখনো মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিপীড়নের শিকার| প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটলেও মানবিক সংকট কাটেনি| এই পরিস্থিতিতে নজরুল আমাদের মনে করিয়ে দেন— মানুষের মুক্তি ছাড়া কোনো সভ্যতা সত্যিকার অর্থে উন্নত হতে পারে না|
নজরুলের সাহিত্য আমাদের কেবল অতীতের স্মৃতি নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের পথনির্দেশ| তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে মানবিক হতে শেখায়, বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠতে শেখায় এবং ˆবষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে|
আমরা যদি সত্যিই নজরুলকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, তবে কেবল তাঁর কবিতা আবৃত্তি করলেই হবে না; তাঁর আদর্শকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে| রাষ্ট্র, রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈবষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে| ধর্মের নামে বিভেদ নয়, মানবতার ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে|
নজরুল ছিলেন স্বাধীনতার কবি, গণতন্ত্রের কবি, ন্যায়বিচারের কবি| তিনি যে সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেখানে মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে, শোষণের শিকার হবে না, ধর্মের কারণে বিভক্ত হবে না| সেই স্বপ্ন আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি| কিন্তু তাঁর সাহিত্য আমাদের আশাবাদী হতে শেখায়|
যতদিন সমাজে বৈষম্য থাকবে, যতদিন মানুষ শোষিত হবে, যতদিন অন্যায় থাকবে— ততদিন নজরুলের কবিতা ও সাম্যের বাণী আমাদের পথ দেখাবে| কারণ তিনি কেবল একটি সময়ের কবি নন; তিনি চিরকালীন মানবমুক্তির কবি|
২৪ মে ২০২৬, প্রেম, দ্রোহ ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী| অবিভক্ত বাংলার (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের এ দিনে (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) জন্মগ্রহণ করেন তিনি| তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’| তিনি ছিলেন বাংলা কবিতার একমাত্র বিদ্রোহী ও গানের বুলবুল| তাঁর বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মায়ের নাম জাহেদা খাতুন|
১৯৪১ সালের শেষ দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এ কবি| এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসা চলে লু¤ি^নী পার্ক ও রাচি মেন্টাল হাসপাতালে| পরে ১৯৫৩ সালে ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে পাঠানো হয় তাঁকে| এই সময়ে একেবারেই বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি| ফলে ১৯৫৩ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় নীরবে-নিভৃতেই কাটে তাঁর জীবন| ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর| নজরুল তাঁর একটি গানে লিখেছেন, “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই / যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”|
কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়| সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম|
তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক : লেখক ও সম্পাদক, স্বর্ণালী সাহিত্য পরিষদ