বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
গোমস্তাপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা এবার রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজনের : জেলায় নতুন আক্রান্ত ৬৬ জন শিবগঞ্জে ৬টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, একজন আটক শিবগঞ্জে বন্যার্তদের মধ্যে চাল বিতরণ করলেন এমপি ড. কেরামত প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় ফিফা সংস্কারের প্রস্তাব দিলেন ইনফান্তিনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন মার্ক উড
Printed on: September 23, 2026
June 05, 2026
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

বিশ্ব পরিবেশ দিবস : জলবায়ুর রুক্ষ থাবায় বরেন্দ্রের প্রাণস্পন্দন

Published: June 05, 2026 at 09:53 AM
বিশ্ব পরিবেশ দিবস : জলবায়ুর রুক্ষ থাবায় বরেন্দ্রের প্রাণস্পন্দন

তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক


প্রতি বছর ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে| দেশজুড়ে চলে পরিবেশ রক্ষার নানা আয়োজন, সেমিনার আর চারা বিতরণের মহোৎসব| কিন্তু বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ মানুষের কাছে পরিবেশের অবক্ষয় কোনো তাত্ত্বিক সংকট নয়; এটি তাদের প্রতিদিনের রুটি-রুজি, বেঁচে থাকা এবং অস্তিত্বের লড়াই| একসময়ের প্রমত্তা পদ্মা, মহানন্দা আর পুনর্ভবা নদীবেষ্টিত এই জেলা আজ মরুময়তার এক জ্বলন্ত প্রতীক| জলবায়ু পরিবর্তনের  বৈশ্বিক প্রভাব এবং আমাদের স্থানীয় পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তার সংলগ্ন বরেন্দ্র অঞ্চল আজ এক চরম পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি| বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দাঁড়িয়ে তাই এই অঞ্চলের মাটি, পানি, নদী আর জীববৈচিত্র্যের বিপন্নতার দিকে নজর দেওয়া আমাদের অস্তিত্বেরই তাগিদ| ভৌগোলিক বাস্তবতা ও বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ রূপ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভূপ্রকৃতিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—একদিকে প্লাবন ভূমি, অন্যদিকে উচুঁ-নিচু লাল মাটির কঠোর বরেন্দ্র অঞ্চল (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাটের অংশবিশেষ)| এই বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির গঠন এমনিতেই পানি ধারণক্ষমতায় দুর্বল| তার ওপর বিগত কয়েক দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলের চিরচেনা ঋতুচক্র সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেছে| আগে যেখানে আষাঢ়-শ্রাবণে বৃষ্টির পানিতে মাঠ-ঘাট ভেসে যেত, এখন সেখানে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী খরা| শীতকালে পড়ছে হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা, আর গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা পার করছেন ৪২ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত| তীব্র দাবদাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি আজ ফেটে চৌচির, যা মরুময়তার স্পষ্ট পূর্বাভাস|


ভূগর্ভস্থ পানির মহাবিপর্যয়; পাতালে নামছে পানির স্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে বড় পরিবেশগত বিপর্যয়টি ঘটছে মাটির নিচে, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী|

১. গভীর নলকূপ ও বোরো চাষের মরণকামড়: একসময় বরেন্দ্র অঞ্চল এক ফসলী ছিল| কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে বিগত কয়েক দশকে এখানে হাজার হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে| ভূগর্ভস্থ পানি তুলে দেদারসে চাষ করা হচ্ছে বোরো ধান| এক কেজি চাল উৎপাদন করতে প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার লিটার পানি লাগে| বরেন্দ্রের যে মাটির নিচে পুনর্ভরণের হার অত্যন্ত কম, সেখান থেকে এভাবে কোটি কোটি গ্যালন পানি তোলার ফলে প্রতি বছর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে|

২. সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার: নাচোল, গোমস্তাপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ অগভীর নলকূপে এখন আর পানি উঠছে না| শুষ্ক মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের মাইলের পর মাইল হেঁটে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে| অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক ও আয়রনের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে| পানি সংকটের এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আগামী এক দশকে এই জেলা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে|


মহানন্দা ও পদ্মার মরণদশা

নদীমাতৃক জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণ বলা হতো মহানন্দা নদীকে| আর জেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পরাক্রমশালী পদ্মা| কিন্তু আজকের বাস্তবতা অত্যন্ত করুণ|

মহানন্দার বুকজুড়ে বালুচর: ভারতের মালদহ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা মহানন্দা নদী আজ পলি জমে নব্যতা হারিয়েছে| শুষ্ক মৌসুমে নদীটি একটি মরা খালে পরিণত হয়| মাইলের পর মাইল জেগে ওঠে ধু-ধু বালুচর| নদীতে পানি না থাকায় মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছেন, বিলুপ্ত হয়েছে বহু দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ উদ্ভিদ|

পদ্মার ভাঙন ও চরাঞ্চলের সংকট: বর্ষায় পদ্মা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানিহাটি, পাকা বা দুর্লভপুর ইউনিয়নে তীব্র ভাঙন সৃষ্টি করে হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে| আবার শুষ্ক মৌসুমে সেই পদ্মার বুকেই মাইলের পর মাইল চর জেগে ওঠে| এই চরাঞ্চলের তীব্র উত্তাপ পুরো জেলার তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে|

রবার ড্যাম ও কৃত্রিমতা: মহানন্দায় পানি ধরে রাখার জন্য 'রবার ড্যাম' নির্মাণ করা হলেও তা নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না| নদীকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার এই চেষ্টা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের কাছে প্রায়শই পরাস্ত হচ্ছে|


আমের রাজধানী বনাম জলবায়ুর ˆবরিতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বলা হয় ‘আমের রাজধানী’| কানসাট আমের বাজার এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি| কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি আঘাত হেনেছে জেলার এই প্রধান অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্তম্ভে|

মুকুল ঝরে পড়া ও অসময়ের আবহাওয়া: গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, আমের মুকুল আসার সময়ে হয় তীব্র কুয়াশা ও শীত থাকছে, না হয় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক গরম পড়ছে| এর ফলে মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে|

তীব্র দাবদাহ ও গুটি ঝরা:  বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ মাসে যখন আম বড় হওয়ার কথা, তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যায় তীব্র 'লু হাওয়া' বা হিটওয়েভ| পানির অভাবে এবং তীব্র গরমে গাছের আম বোঁটা শুকিয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে|

কীটনাশকের অতি-ব্যবহার: পরিবর্তিত আবহাওয়ায় আমের রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে চাষিরা নির্বিচারে হরমোন ও রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে করছেন| এতে সাময়িক ফলন মিললেও দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে উপকারী কীটপতঙ্গ (যেমন মৌমাছি), এবং পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে|


অবৈজ্ঞানিক নগরায়ণ ও পাহাড়সম বর্জ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা এবং অন্যান্য উপজেলা সহ সদরের দিকে তাকালে পরিবেশগত অব্যবস্থাপনার আরেকটি ভয়ঙ্কর রূপ চোখে পড়ে|

জলাশয় ভরাট ও বিলুপ্তি: বিল, পুকুর ও নালাগুলো ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে| সামান্য বৃষ্টিতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়|

প্লাস্টিক ও বর্জ্য দূষণ: মহানন্দা নদীর তীরে কিংবা শহরের ফাঁকা জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে| পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনগুলো জ্যাম করে দিচ্ছে এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে সরাসরি মহানন্দা নদীকে দূষিত করছে|


চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বাঁচাতে করণীয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে মরুময়তা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. ফসল বিন্যাসের পরিবর্তন : বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধানের চাষ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে| এর পরিবর্তে কম পানি লাগে এমন ফসল যেমন—গম, ভুট্টা, ডাল, সরিষা এবং লাভজনক ড্রাগন ফল বা মাল্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে|

২. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাস পুকুর ও দিঘিগুলো পুনঃখনন করতে হবে| বৃষ্টির পানিকে মাটির নিচে পাঠানোর জন্য 'আর্টিফিশিয়াল রিচার্জ' পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে স্থিতিশীল রাখবে|

৩. ব্যাপক হারে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুধু আম গাছ নয়, এর পাশাপাশি নিম, বকুল, অর্জুন, বট এবং তাল গাছের মতো দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে| বিশেষ করে বজ্রপাত রোধে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বরেন্দ্রের উঁচু রাস্তাগুলোর দুই পাশে বিপুল পরিমাণ তালগাছ রোপণ করা জরুরি|

৪. নদী খনন ও সীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা: পদ্মা ও মহানন্দা নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ড্রেজিং বা খনন কাজ করতে হবে| নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কঠোর হস্তে দমন করতে হবে, কারণ অবৈধ বালু উত্তোলন নদীর পাড় ভাঙন ও নব্যতা হ্রাসের অন্যতম কারণ|

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি ও মানুষ মূলত এক আদিম সহনশীলতার গল্প বলে| বিস্তীর্ণ লাল মাটির বরেন্দ্র অঞ্চল আর পলি-গঠিত প্লাবন ভূমির ˆবপরীত্যের মাঝেই এ অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম গড়ে উঠেছে| শত খরা, অনাবৃষ্টি, তীব্র দাবদাহ আর প্রকৃতির রুক্ষতার বিরুদ্ধে লড়াই করেই এ অঞ্চলের মানুষ যুগ যুগ ধরে টিকে আছে| আজ আমরা তথাকথিত আধুনিকতা আর অপরিকল্পিত উন্নয়নের মোহে অন্ধ হয়ে সেই সীমানা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করছি| উন্নয়ন আর অগ্রগতির নামে আমরা আমাদের জীবনদায়ী নদীগুলোকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলছি|

একই সাথে আমের ফলন বাড়ানোর অন্ধ প্রতিযোগিতায় নির্বিচারে মাটির বুক থেকে দেশীয় বনজ ও ভেষজ সবুজ ধ্বংস করা হচ্ছে| তালের গাছ, বট, পাকুড় আর নিমের মতো দীর্ঘজীবী গাছ কেটে ফেলার কারণে পুরো জেলার তাপমাত্রা আজ মরু অঞ্চলের মতো চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠছে, বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার| রাসায়নিক কীটনাশকের অতি-ব্যবহার মাটির অণুজীব ও উপকারী কীটপতঙ্গকে চিরতরে বিদায় করে দিচ্ছে| প্রকৃতিকে এভাবে ক্ষতবিক্ষত করার পর তার কাছ থেকে শুভ কিছু আশা করা যায় না; প্রকৃতি যখন প্রতিশোধ নিতে শুরু করবে, তখন মানুষের ˆতরি কোনো প্রযুক্তিই আমাদের রক্ষা করতে পারবে না|

তাই এই বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আপামর জনসাধারণের কাছে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে এটাই হোক মূল আহ্বান—আসুন, আমরা আমাদের নদীকে ভালোবাসতে শিখি| নদীকে দখল ও বর্জ্যমুক্ত করে তার ¯^াভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দিই| প্লাস্টিক ও পলিথিনের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিষকে বর্জন করি, যা আমাদের মাটির উর্বরতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস করছে| ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হই এবং বোরো চাষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কম পানি-গ্রাসী ও পরিবেশবান্ধব ফসলের দিকে ঝুঁকি| একই সাথে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রাচীন ও আধুনিক পদ্ধতির সংমিশ্রণ ঘটাই|

আসুন, এই বরেন্দ্র ভূমিকে আবার দেশীয় গাছের ছায়ায়, সবুজে-শ্যামলে ভরিয়ে তুলি| আমাদের মনে রাখতে হবে—চাঁপাইনবাবগঞ্জ যদি বাঁচে, তবেই বাঁচবে আমাদের হাজারো আমবাগান, বাঁচবে আমাদের আঞ্চলিক অর্থনীতি, সচল থাকবে আমাদের জীবন-জীবিকা এবং নিরাপদ থাকবে আমাদের আগামী প্রজন্ম| প্রকৃতি ধ্বংসের এই ধারা অব্যাহত থাকলে একদিন হয়তো বহুতল ভবন থাকবে, কিন্তু তা হবে এক মৃত ও পরিত্যক্ত বদ্বীপে| প্রকৃতিকে জড়িয়ে ধরেই আমাদের টিকে থাকতে হবে|

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আপামর জনসাধারণের কাছে এটাই হোক আহ্বান—আসুন, আমরা আমাদের নদীকে ভালোবাসি, প্লাস্টিক বর্জন করি, পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হই এবং এই বরেন্দ্র ভূমিকে আবার সবুজে শ্যামলে ভরিয়ে তুলি| চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাঁচলে, বাঁচবে আমাদের আমগাছ, আমাদের অর্থনীতি এবং আমাদের আগামী প্রজন্ম|


লেখক: তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক, সম্পাদক, স্বার্ণালী সাহিত্য পরিষদ, প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক ও ব্যবসায়ী|