চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিতে ডাকা কর্মবিরতি দফায় দফায় বৈঠকের পর প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এ কর্মবিরতি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা।
সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর সকাল থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা তুচ্ছ বিষয়ে এবং বিনা কারণে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কর্মচারীদের হয়রানি, কোনো ভুলত্রুটি না থাকলেও ইচ্ছেমতো কার্ড আটকে রাখা, ফাইল সাবমিট করার পর বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা এবং আগে না জানিয়ে হঠাৎ করে নতুন নতুন আইন দেখিয়ে প্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
বিভিন্ন সুত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রমিক সমন্বয় কমিটি নিজেদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করে। পরে এ ৩ সংগঠনের প্রতিনিধি দল কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।
সন্ধ্যায় বৈঠক শেষ হলে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন এবং কাজে ফিরে যান। শুরু হয় বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম।
এ ব্যাপারে আরিফ উদ্দিন ইতি জানান, আগামী ১৫ দিন পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আগের নিয়মেই হবে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে সোনামসজিদ কাস্টমস কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানার সাথে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সহকারী কাস্টমস কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, রাজশাহী থেকে অ্যাডিশনাল কমিশনার খাইরুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে কাস্টমস এবং বন্দর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিকেলে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৫ দিন আগের নিয়মে পণ্য খালাস হবে এবং ১৫ দিন পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, ‘আমি সভায় ছিলাম না, তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।’
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় গত ৩ দিনে ৪৫০টি ভারতীয় ট্রাক, বাংলাদেশী ২৮টি ট্রাক বন্দরের ভেতরে এবং বন্দরের প্রধান ফটক থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত রাস্তায় আটকা পড়ে।