পটচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ ‘এ’র বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিশিয়াল টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া বাংলাদেশ ‘এ’ দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র ৪ উইকেট তুলে নিতে পারলেও স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহ থামাতে পারেনি। ৮৯ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। সেঞ্চুরি করে অপরাজিত আছেন সাইনেথেম্বা কিশেল ও লেসেগো সেনোকোয়ানে। দিনের শুরুতে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ‘এ’। নতুন বল হাতে সেই সিদ্ধান্তের কিছুটা প্রতিদানও পান বাংলাদেশের বোলাররা। দলীয় ১০ রানেই দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র প্রথম উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৩ বলে ৪ রান করা ওপেনার শেপাং দিথোলে মুশফিক হাসানের বলে জাকের আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
তবে এই সাফল্যের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংকে আর খুব একটা চাপে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ ‘এ’। প্রথম উইকেটের পর লেসেগো সেনোকোয়ানে ও জুবায়ের হামজা দ্বিতীয় উইকেটে ১৫১ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত্তি শক্ত করেন। দুজনই ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় মাঠে রাখেন। জুটি ভাঙে দলীয় ১৬১ রানে। ১০৪ বলে ৬৮ রান করা হামজাকে রেজাউর রহমান রাজা ফিরিয়ে দেন। হামজার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছক্কা। হামজার বিদায়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দ্রুত আরেকটি উইকেট হারায়। দলীয় ১৬৬ রানে অধিনায়ক মার্কস অ্যাকারম্যান মাত্র ৫ বলে ৪ রান করে হাসান মুরাদের বলে আউট হন। ফলে মাত্র পাঁচ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই চাপও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
এরপর সাইনেথেম্বা কিশেলকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের হাল ধরেন সেনোকোয়ানে। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে ১৮২ রানের বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশ ‘এ’র বোলিং আক্রমণকে আরও কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন। এই জুটির সুবাদেই ৩৫০ পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র সংগ্রহ। দিনের শেষ ভাগে দলীয় ১৯০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। ১৬৯ বলে ১১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে লেসেগো সেনোকোয়ানে নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হন। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কায়। ৬৫.৬৮ স্ট্রাইক রেটে খেলা সেনোকোয়ানে দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি খেলেন এবং দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। সেনোকোয়ানের বিদায়ের পরও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র রান তোলার গতি খুব একটা কমেনি। উইকেটকিপার-ব্যাটার সাইনেথেম্বা কিশেল ও গ্যাভিন কাপলান দিনের বাকি সময় নির্বিঘ্নে ব্যাটিং করেন। পঞ্চম উইকেটে এখন পর্যন্ত ১৮২ রান যোগ করেছেন তারা। দিন শেষে কিশেল ১৪৫ বলে ১১১ রানে অপরাজিত। তার ইনিংসে রয়েছে ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে কাপলান ৯৯ বলে ৭২ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। তার ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা।
ফলে প্রথম দিনের শেষ বলে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র স্কোর দাঁড়ায় ৮৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৭২। দলের রানরেট ছিল ৪.১৭। বাকি পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে ডেলানো পটগিটার, কাইল সিমন্ডস, ম্যাথিউ বোস্ট, শেপো এনটুলি ও শেপো মোরেকি এখনো ব্যাটিংয়ে নামেননি। অর্থাৎ হাতে আরও ব্যাটিং গভীরতা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র। বাংলাদেশ ‘এ’র বোলারদের মধ্যে মুশফিক হাসান ছিলেন তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত। ১২ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। তার ইকোনমি ছিল ৩.৯১। ১০ ওভার বল করে নাঈম হাসান ৯২ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। রেজাউর রহমান রাজা ১৪ ওভারে ৬৯ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। হাসান মুরাদ ছিলেন সবচেয়ে বেশি ওভার করা বোলারদের একজন; ৩২ ওভারে ১১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। বাংলাদেশ ‘এ’র জন্য প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল উইকেট পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষের রান আটকাতে না পারা। প্রথম ৪৩.৩ ওভারের মধ্যে চারটি উইকেট পেলেও এরপর আর কোনো উইকেট তুলতে পারেনি তারা। বিপরীতে শেষ দুই উইকেট জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ১৮২ রান যোগ করে দিনটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। দিন শেষে কিশেল ও কাপলান ক্রিজে থাকায় দ্বিতীয় দিন শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ এখন ৩৭২ রানে দাঁড়িয়ে। কিশেল ইতোমধ্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন, কাপলানও রয়েছেন সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে।