স্মৃতি খাতুন
আজ ১ সেপ্টেম্বর প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট-পিএফটিআই’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই গৌরবের দিনে পেছনে তাকিয়ে নিজের ৮ বছরের জার্নির কথা না বললেই নয়।
২০১৯ সালে একজন তরুণী সিঙ্গার হিসেবে যখন পিএফটিআই পরিবারে যুক্ত হই, তখন আমার সম্বল ছিল শুধু গলা আর গানের প্রতি ভালোবাসা। কিন্তু লোকসংস্কৃতি, লোকগানের গভীরতা, মঞ্চের শৃঙ্খলা— এসব কিছুই আমার অজানা ছিল।
এই ৮ বছরে পিএফটিআই আমাকে শুধু একজন শিল্পীই বানায়নি, আমাকে একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। এখানে আমি শিখেছি, কীভাবে ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদী, লালনগীতি আর পল্লীগীতির মধ্য দিয়ে আমাদের গ্রাম-বাংলার কথা বলতে হয়। শিখেছি স্টেজ মানেই বিনোদন নয়, স্টেজ মানে সমাজের কাছে সত্য তুলে ধরা।
এই দীর্ঘ পথচলায় কত রাত জেগে রিহার্সেল, কত জেলা-উপজেলায় প্রোগ্রাম, কতবার দর্শকের চোখের পানি আর করতালি পেয়েছি। কখনো হেরেছি, কখনো জিতেছি। কিন্তু প্রতিবার হোঁচট খেয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছি এই প্রতিষ্ঠান থেকে।
আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, আমাদের সম্মানিত নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন স্যারের প্রতি। স্যারের দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম আর লোকসংস্কৃতির প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণেই আজ পিএফটিআই দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। স্যারের হাত ধরেই আমরা শিখেছি শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা, সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা আর দলের প্রতি দায়বদ্ধতা।
পিএফটিআইয়ে কাজ করতে পেরে আমি নিজেকে সত্যিই ধন্য মনে করি। এখানকার প্রতিটা সদস্য আমার পরিবার। এখানকার প্রতিটা মঞ্চ আমার পাঠশালা। এখানকার প্রতিটা গান আমার পরিচয়।
আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুধু অতীতকে স্মরণ করছি না, ভবিষ্যতের জন্যও অঙ্গীকার করছি। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন পিএফটিআই’র পতাকা হাতে নিয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতিকে মানুষের দরজায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে যাবো।
প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের আজ ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।