বৃষ্টি আরা খাতুন
২০১৪ সাল থেকে প্রয়াস ফোক থিয়েটারের সাথে আছি। মাঝে কিছুদিন বিরতি গেলেও, মোট সাতটা বছর কেটে গেছে এই মঞ্চে, এই রিহার্সেল রুম আর এই মানুষগুলোর সাথে। প্রয়াস ফোক থিয়েটার আমার কাছে শুধু একটা শখ না, এটা আমার স্কুল, আমার পরিবার, আমার দ্বিতীয় ঘর।
এখানে আমি যা করি— নাট্য চর্চা : স্ক্রিপ্ট পড়া, সংলাপ মুখস্থ করা, চরিত্রের ভেতরে ঢোকা। কখনো কৃষানি, কখনো শিক্ষক, কখনো বিদ্রোহী আবার কখনো বাবা-মা হারা এতিম সন্তান। প্রতিটা চরিত্র আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। স্টেজে দাঁড়িয়ে দর্শকের সামনে কথা বলার সাহসটা এখান থেকেই পেয়েছি।
গান চর্চা : নাটকের সাথে গান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দলবদ্ধ গান, কোরাস, আবৃত্তির তাল। সুরে সুরে মিলে কাজ করার আনন্দটাই আলাদা। গলা ছেড়ে যখন গান গাই, তখন মনে হয় নিজের জীবনের গল্পগুলোই যেন গানের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। গাইতে গাইতে বুকের জড়তাও কেটে গেছে।
আরো অনেক কিছু : নিজের রচিত গান লিখতে শিখেছি। নিজের লেখা গান থিয়েটারের অন্য সদস্যরাও গায়। আর সেটা যখন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়, তখন আরো ভালো লাগা কাজ করে। এখানে নিয়ম-শৃঙ্খলা শিখেছি, শিখেছি অফিস ডেকোরাম বা ম্যানার, কাজ। সময়ের দাম শিখেছি। হার-জিত মেনে নেয়া শিখেছি। সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা শিখেছি, সেটা হলো মানুষ হওয়া।
ভুল করলে সিনিয়ররা বকেছেন, আবার মাথায় হাতও বুলিয়ে দিয়েছেন। একসাথে না খেয়ে রিহার্সেল করেছি, আবার এক প্লেটে ভাতও খেয়েছি। এখানে এসে আমি ভাই-বোন পেয়েছি। পরিবার পেয়েছি। আর খুব ভালো বন্ধু পেয়েছি। প্রয়াস ফোক থিয়েটার আমাকে শিখিয়েছে কথা বলতে, শুনতে, বুঝতে। থিয়েটার আমাকে শিখিয়েছে পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে।
সাত বছরে অনেক চড়াই-উতরাই গেছে। কিন্তু যখন পারফরম্যান্সের পর দর্শকের করতালি পাই— মনে হয় এই কষ্টটাই সার্থক।
প্রয়াস ফোক থিয়েটার আছে বলেই আজ আমি হতে পেরেছি। তাই প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের জন্মদিনে আমার অন্তস্তল থেকে অনেক ভালোবাসা ও দীর্ঘ পথচলার শুভ কামনা করছি।