প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন তাদের সহযোগিতার জন্য সরকার পাশে রয়েছে|
তিনি বলেন, ‘এখন কাজ করার সময়| যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন| কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব|’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে| তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য| আপনাদের পথ দেখানোর জন্য| আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব|’
‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন|
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে|
অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন| মানুষ ও সমাজের জন্য, সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন| দেশের লাখো কোটি মানুষের আপনাদের প্রয়োজন| এই দেশেরও প্রয়োজন আপনাদের|
অনুষ্ঠানে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীসহ সফল অনেক উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন|
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই| জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য একসময় আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি| তবে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই| কিন্তু দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না| পরে ঠিক করেছি রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে|’
অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্যে আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে| আমাকে অনেক ˆধর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে| এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি|’
প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তাই আপনাদের বলি, আপনাদের কাজও খুব কঠিন| আপনাদের এ রকম অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে| তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি| কতটুকু পারব জানি না| তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব|’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ চীন ˆমত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ইনোভেশন ইভেন্ট ছিল| আমরা ছোটবেলায় সাইন্স ফেয়ার বলতে যা বুঝেছি অনেকটা ওরকম| বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চারা সারাদেশ থেকে এসে সেখানে অংশ নেয়| তারা তাদের বানানো নানা প্রজেক্ট উপস্থাপন করে| কিছুদিন আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম| সেখানে সারাদেশের প্রাইমারি স্কুলের ২২ লাখ শিশু বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করে|
তিনি বলেন, ‘রাজনীতির কারণে মাঝে মাঝেই হতাশ হয়ে যাই| কিন্তু এ দুটি অনুষ্ঠান দেখার পর, সেই বাচ্চাগুলোকে দেখার পর আমার সে হতাশা কেটে গেছে| আমার নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে| আর আজ আপনাদের বক্তব্য শুনে ও আপনাদের কাজ দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে|’
তারেক রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে প্রত্যাশা ও দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আমার তো একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে| দলের পরিকল্পনা আছে| দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি| দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি| আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করেছি একটু পরিবর্তন আনার| আজকে আপনাদের দেখে এবং ওই দুটো অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের দেখে মনে হয়েছে, আমরা কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারব| আমরা যেখানে ছেড়ে যাবো, সেখান থেকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আপনারা|’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন— ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ|
সূচনা বক্তব্য দেন— তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা| স্বাগত বক্তব্য দেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন| অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিনেট ভবনের পাশে তরুণ উদ্যাক্তাদের স্টল পরিদর্শন করেন|
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়| এরপর সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব ‘গল্প নয়, সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়|
এ সময় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় রিসোর্স নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ (startup.ictd.gov.bd)--এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী| পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে এক প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনায়ও অংশ নেন|
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগকে আরো উৎসাহিত করতে নির্বাচিত ছয়টি স্টার্টআপের প্রতিনিধির হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন| দেশের ঐতিহ্য জামদানি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রাফিহা ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তার নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান প্রাপ্তির আবেদনের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক তার হাতেও অনুদানের একটি চেক তুলে দেন|
পরে তিনি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ পরিদর্শন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন|
উল্লেখ্য, নতুন প্রজন্মে উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার| এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে|
এরই মধ্যে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে