রবিবার ১২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৬ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছে ৯৬৩ জন বিজিবির পৃথক অভিযানে ৫৩৬ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রেখে যেতে হবে : জেলা প্রশাসক সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন পানিবন্দি মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সারাদেশে প্রাথমিক বৃত্তি পেয়েছে ৭৯২৪৬ শিক্ষার্থী আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দিবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা সিটির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর জনস্বার্থ নিশ্চিত করেই আইএমএফের নতুন প্রোগ্রাম নেয়া হবে : সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী নতুন করে করোনার হানায় ভারতে ২ জনের মৃত্যু
Printed on: July 12, 2026
July 12, 2026
জাতীয়
জাতীয়

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন

Published: July 12, 2026 at 02:35 PM
সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার  মারা গেছেন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। তার পুত্র ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জমির উদ্দিন সরকারের সহধর্মিণী নূর আখতার ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আরো অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ বাদ জোহর রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে জানাজায় অংশ নেন আত্মীয়স্বজন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও স্থানীয় মানুষ।

বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানাজা শেষে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে সংসদের নির্ধারিত চত্বরে জমির উদ্দিন সরকারকে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দেন।

এসময় বক্তারা জমির উদ্দিন সরকারের দেশের জন্য বিভিন্ন অবদান ও দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বড় ছেলে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির বক্তব্য দেন। এসময় তিনি তারা বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার নিকট দোয়া কামনা করেন।

এছাড়াও জানাজায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু; বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানসহ সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাবেক এই স্পিকারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। এছাড়া ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ এবং দিনাজপুর-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভ‚মি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।