চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে| মঙ্গলবার সদর উপজেলার মাঝি ও পারগানা পরিষদ, নাচোলে আদিবাসী অ্যাকাডেমি ও বাবুডাইং আলোর পাঠশালা পৃথক পৃথক আয়োজনে দিবসটি পালন করে|
দিবসটি উপলক্ষে সদর উপজেলার আতাহার যুগিডাইং এলাকায় দিনব্যাপী র্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাঝি ও পারগানা পরিষদ| এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়|
বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী| বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আজমাইন মাহতাব, ওয়ার্ল্ড ভিশিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার মানুয়েল হাসদা ও এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মার্কাস সরেন|
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পারগানা পরিষদের কর্নেলিউস মুরমু| অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন শিক্ষার্থী নীল মনি কিসকু| পরে সেটি জেলাপ্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়| এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের আদিবাসী নৃত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বরণ করা হয়|
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, “১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ শুধু একটি জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল শোষণ, ˆবষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক গণজাগরণ| সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে|
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন বলেন, "সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ| তাদের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরো জোরদার করা প্রয়োজন|” পাশাপাশি আদিবাসী শিশুদের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি| তিনি বলেন, নিজেদের ভাগ্য বদল করতে হলে এবং মুল ধারায় উঠে আসতে হলে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই|
সভাপতির বক্তব্যে পারগানা কর্নেলিউস মুর্মু বলেন, “সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস আমাদের আত্মপরিচয়, অধিকার ও সংগ্রামের ইতিহাস| এই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রতিবছর এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে|”
আলোচান শেষে সাঁওতাল সংস্কৃতিভিত্তিক নৃত্য, সংগীতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা|
এর আগে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি যুগিডাইং গ্রামের সড়ক প্রদক্ষিণ করে| পরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক মিথুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বার্নাবাস হাসদা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পারগানা পরিষদের নেতা কর্নেলিউস মুরমুসহ উপস্থিত ছিলেন|
দিনব্যাপী আয়োজনে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন| তাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে দিবসটির আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়|