মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বাল্যবিয়ে ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে মতবিনিময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসের আলোচনায় ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসকের নাচোলে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত আলোর পাঠশালায় ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালন চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনটি গরু পেলেন তিন নারী ভিক্ষুক চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু মহানন্দায় নিখোঁজ একজন পলশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ভোলাহাটে জব্দ ১৬টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস
Printed on: June 30, 2026
June 30, 2026
জাতীয়
জাতীয়

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস

Published: June 30, 2026 at 01:57 PM
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট মঙ্গলবার পাস হয়েছে| যা আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে| বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমšি^ত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে|

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে|

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট| এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মাধ্যমে সর্বশেষ জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছিল|

বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ| একই সঙ্গে বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ|

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘৩আর (3R) কৌশল’ ঘোষণা করেন| এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে|

এই কৌশলের তিনটি ধাপ হলো— রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন| এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এ কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে|

বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা| এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে|

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে ২০২৬ সালের বরাদ্দ বিল (নির্দিষ্টকরণ বিল), ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন| এতে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়| পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়|

এর আগে সোমবার জাতীয় সংসদ অর্থ বিল, ২০২৬ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ পাস করে| সংশোধনীগুলোর মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করার বিধান উল্লেখযোগ্য|

নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির আওতায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের যৌক্তিকতা সংসদে উপস্থাপন করেন|

অন্যদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলে জাতীয় সংসদ কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ করে দেয়|

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ¯^তন্ত্র সদস্যসহ মোট ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করে আলোচনায় অংশ নেন|

ছাঁটাই প্রস্তাবের আওতায় থাকা ৩৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়, অর্থ বিভাগ, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন|

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই একযোগে কণ্ঠভোটে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন|

নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও ¯^তন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন এবং বিলটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি|