চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শুরু হয়েছে মধুমাস| আর কদিন পরই বাজারে আসবে সুস্বাদু ও রসালো ফল আম| বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে আরেক রসালো ফল লিচু| তবে এই গরমে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে কাঁচা তালের পানি বা তালশাঁস| কয়েকদিনের তাপদাহের মধ্যে কদর বেড়েছে এই তাল শাঁসের|
মানুষের দেহের পানির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন হাট-বাজারসহ জেলা শহরের মোড়ে মোড়ে বসছে এই তালশাঁসের অস্থায়ী বেচাকেনা| প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মানুষ ভিড় করে তালশাঁস কিনে খাচ্ছেন| অন্যদিকে বেশ কিছু দিন মজুরের কর্মসংস্থান হচ্ছে এই তালশাঁস বিক্রি করে| জেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে তালশাঁস সংগ্রহ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিক্রির জন্য আনেন তারা|
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করছেন আরিফ| তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বড়পুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা| বছরের অন্যান্য সময় কৃষিকাজ করলেও এই সময়ে তালশাঁস বিক্রি করে থাকেন বলে জানান তিনি|
এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সামনে সড়কের পাশে সবার পছন্দের এ মৌসুমি ফলটি বিক্রি করছেন সদর উপজেলার পলশা গ্রামের আতাউর রহমান| এক হালি তালের শাঁস তার ভাষায় তালের চোখ বিক্রি করেন ৩০ টাকা করে|
আরিফ ও আতাউর রহমান জানান, একটি তাল থেকে দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়| প্রতি পিস এখন ৭ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়| গ্রামে গ্রামে ঘুরে এসব কচি তাল কিনে এনে বাজারে বিক্রি করেন তারা| তালের সংখ্যা ভেদে একটি গাছের দাম পড়ে ৫০০ থেকে হাজার টাকাও পড়ে যায়| প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৭শ থেকে ১ হাজার পিস তাল কেটে বিক্রি করেন বলে তারা জানান| যা ৭শ থেকে ১ হাজার টাকার বেচাকেনা হয়|
তালের শাঁস বিক্রেতা আজিম জানান, কেউ একটু তরল, আবার কেউ একটু শক্ত শাঁস পছন্দ করেন| তবে বেশির ভাগ মানুষ কচি বা নরম শাঁস পছন্দ করেন| প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কাঁদি তাল বিক্রি করেন তিনি| বছরের অন্য সময় ভিন্ন কাজে জড়িত থাকেন বলে তিনি জানান|
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, গরমের সময় এ ফলটির ব্যাপক চাহিদা থাকে| সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তালশাঁস কিনে খান| তবে এ বছর দামটা একটু বেশি|
কচি তালের শাঁস খাওয়ার উপকারীতা জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, গরমের এই সময়ে কচি তালের শাঁস কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী| এতে প্রচুর পরিমাণে পানি, খনিজ লবণ এবং ভিটামিন থাকে|
তিনি আরো জানান, তালের শাঁস শরীরকে দ্রুত শীতল করে| অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে| শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়| তবে কিছু মানুষের ঠান্ডার সমস্যা থাকতে পারে, তাদের সাবধান হয়ে খাওয়া প্রয়োজন|
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, বজ্রপাত রোধে বিভিন্ন রাস্তার ধারে তালগাছ রোপণ করা হয়েছে|
সুস্বাদু, অন্যদিকে কচি তালের শাঁসে জলীয় অংশ বেশি থাকায় তা দেহের পানি শূন্যতা পূরণ করে| এটি মুখরোচক খাবার, এর মধ্যে প্রচুরপরিমাণ পানি আছে, এটি পুষ্টিকর, এতে ক্যালসিয়াম আছে, আয়রণ আছে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে| এটা শীরের জন্য ভালো| মৌসুমি ফল হিসেবে তালের শাঁস অবদান রাখছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে|