বুধবার ২০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চামড়া আমাদের অর্থকরী সম্পদ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন চন্দননগর ইউপির উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা বিশ্বকবি ও জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন আবারো নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন এমপি মিজানুরের কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের আহ্বান : ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা জেলা প্রশাসনের ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৮ দিন বন্ধ থাকবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ‘হলদে পাখি’ সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা গোমস্তাপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন গৃহশিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের : তিনজনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ
Printed on: May 20, 2026
May 20, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে দুই চীনা সুপারট্যাংকারের হরমুজ অতিক্রম

Published: May 20, 2026 at 06:59 AM
৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে দুই চীনা সুপারট্যাংকারের হরমুজ অতিক্রম

মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি চীনা সুপারট্যাংকার বুধবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে| দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর জাহাজ দুটি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে| শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার ও এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিল তেলবাহী এই দুটি বড় জাহাজ| পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় তারা হরমুজ প্রণালি পার হয়ে যাত্রা চালিয়ে যায়| সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গিয়েছিল| বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুট দিয়ে খুব অল্প সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছিল| তবে এখন ধীরে ধীরে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে| বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ চলাচল আবার শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা আসার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে| বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা ˆতরি হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি হয়তো আরো বড় সংঘাতের দিকে যাচ্ছে না| গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান ইস্যুতে আশাবাদী মন্তব্য করেন| তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে| তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হব- ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র ˆতরি করতে না পারে| বিশ্বের জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি| উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়| ফলে এই এলাকায় উত্তেজনা বাড়লেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা শুরু করে| গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতের ‘না’ ভারতের উত্তরাখণ্ডে গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের পক্ষে নয় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার| বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া এক হলফনামায় কেন্দ্র জানায়, অলকানন্দা ও ভাগীরথী নদী অববাহিকায় চলমান বা নির্মাণের শেষ পর্যায়ে থাকা সাতটি প্রকল্প ছাড়া নতুন কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করা হবে না| গঙ্গা অববাহিকার ভঙ্গুর পরিবেশ, ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে| গঙ্গার উজানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সাল থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে| ওই বছর কেদারনাথের ভয়াবহ বন্যার পর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়|


সাতটি প্রকল্প ছাড়া সব বন্ধ

আদালতে দাখিল করা হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, গঙ্গার উজানে কেবল আগে থেকে অনুমোদিত ও নির্মাণাধীন সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কঠোর পরিবেশগত নিয়ম মেনে চালু রাখা যাবে| এর বাইরে নতুন কোনো প্রকল্প আর হাতে নেওয়া যাবে না| অনুমতি পাওয়া এই সাতটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে তেহরি স্টেজ-২, তাপোবন বিষ্ণুগড়, বিষ্ণুগড় পিপলকোটি, সিগনোলি ভাতওয়ারী, ফাটা ব্যুং, মধুমহেশ্বর এবং কালিগঙ্গা-২| সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, এই সাতটি প্রকল্প ছাড়া অলকানন্দা ও ভাগীরথী নদীর উচ্চ অববাহিকায় ভারত সরকার অন্য কোনো নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে নয়|


কেন এই সিদ্ধান্ত?

ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয় দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, গঙ্গা নদী ব্যবস্থা অন্য যে কোনো নদী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন|

আগে একটি বিশেষজ্ঞ দল ২৮টি নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ করলেও কেন্দ্র তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে| হলফনামায় বলা হয়, আগের ওই রিপোর্টে বনাঞ্চল ও নদীর সামগ্রিক ক্ষতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল| সব কয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো|


অঞ্চলের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০১৩ সালের জুন মাসে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথে এক ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়| এরপরই ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট গঙ্গার উজানে নতুন প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে| পরিবেশবিদ রবি চোপড়ার নেতৃত্বাধীন প্রথম কমিটি পরিষ্কার জানিয়েছিল, এই বড় বড় নির্মাণ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোই কেদারনাথ বিপর্যয়ের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল| গঙ্গা নদীর এই উচ্চ অববাহিকা অঞ্চলটি ভারতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প প্রবণ ‘জোন ৪’ ও ‘জোন ৫’-এর মধ্যে অবস্থিত| ফলে এলাকাটি ধস, হড়পা বান ও মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক| সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র এবং গঙ্গার উজান দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা| সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস