শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ স্বাস্থ্য সচিবের চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫ দুস্থের মধ্যে আড়াই লাখ টাকার চেক বিতরণ শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন পুলিশ সুপারের চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত : ছাড়পত্র ২৬ জনকে, ভর্তি রোগী ১২৮ জন সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন : ভারতে যাওয়ার সময় যুব মহিলা লীগ নেত্রী আটক বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে : যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : ভোলায় সাংবাদিকদের স্পিকার
Printed on: October 23, 2026
May 20, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে দুই চীনা সুপারট্যাংকারের হরমুজ অতিক্রম

Published: May 20, 2026 at 06:59 AM
৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে দুই চীনা সুপারট্যাংকারের হরমুজ অতিক্রম

মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী দুটি চীনা সুপারট্যাংকার বুধবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে| দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর জাহাজ দুটি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে| শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার ও এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করছিল তেলবাহী এই দুটি বড় জাহাজ| পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় তারা হরমুজ প্রণালি পার হয়ে যাত্রা চালিয়ে যায়| সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গিয়েছিল| বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুট দিয়ে খুব অল্প সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছিল| তবে এখন ধীরে ধীরে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে| বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ চলাচল আবার শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা আসার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে| বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা ˆতরি হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি হয়তো আরো বড় সংঘাতের দিকে যাচ্ছে না| গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান ইস্যুতে আশাবাদী মন্তব্য করেন| তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে| তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হব- ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র ˆতরি করতে না পারে| বিশ্বের জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি| উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়| ফলে এই এলাকায় উত্তেজনা বাড়লেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা শুরু করে| গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতের ‘না’ ভারতের উত্তরাখণ্ডে গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের পক্ষে নয় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার| বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া এক হলফনামায় কেন্দ্র জানায়, অলকানন্দা ও ভাগীরথী নদী অববাহিকায় চলমান বা নির্মাণের শেষ পর্যায়ে থাকা সাতটি প্রকল্প ছাড়া নতুন কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করা হবে না| গঙ্গা অববাহিকার ভঙ্গুর পরিবেশ, ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে| গঙ্গার উজানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সাল থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে| ওই বছর কেদারনাথের ভয়াবহ বন্যার পর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়|


সাতটি প্রকল্প ছাড়া সব বন্ধ

আদালতে দাখিল করা হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, গঙ্গার উজানে কেবল আগে থেকে অনুমোদিত ও নির্মাণাধীন সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কঠোর পরিবেশগত নিয়ম মেনে চালু রাখা যাবে| এর বাইরে নতুন কোনো প্রকল্প আর হাতে নেওয়া যাবে না| অনুমতি পাওয়া এই সাতটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে তেহরি স্টেজ-২, তাপোবন বিষ্ণুগড়, বিষ্ণুগড় পিপলকোটি, সিগনোলি ভাতওয়ারী, ফাটা ব্যুং, মধুমহেশ্বর এবং কালিগঙ্গা-২| সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, এই সাতটি প্রকল্প ছাড়া অলকানন্দা ও ভাগীরথী নদীর উচ্চ অববাহিকায় ভারত সরকার অন্য কোনো নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে নয়|


কেন এই সিদ্ধান্ত?

ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয় দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, গঙ্গা নদী ব্যবস্থা অন্য যে কোনো নদী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন|

আগে একটি বিশেষজ্ঞ দল ২৮টি নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ করলেও কেন্দ্র তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে| হলফনামায় বলা হয়, আগের ওই রিপোর্টে বনাঞ্চল ও নদীর সামগ্রিক ক্ষতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল| সব কয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো|


অঞ্চলের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০১৩ সালের জুন মাসে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথে এক ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়| এরপরই ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট গঙ্গার উজানে নতুন প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে| পরিবেশবিদ রবি চোপড়ার নেতৃত্বাধীন প্রথম কমিটি পরিষ্কার জানিয়েছিল, এই বড় বড় নির্মাণ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোই কেদারনাথ বিপর্যয়ের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল| গঙ্গা নদীর এই উচ্চ অববাহিকা অঞ্চলটি ভারতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প প্রবণ ‘জোন ৪’ ও ‘জোন ৫’-এর মধ্যে অবস্থিত| ফলে এলাকাটি ধস, হড়পা বান ও মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক| সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র এবং গঙ্গার উজান দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা| সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস