চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙন কবলিত উজিরপুর ইউনিয়নের উজিরপুর ও রাধাকান্তপুর মৌজার কয়েক হাজার বিঘা জমির কর বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে| বন্ধ থাকা কর চালুর উদ্যোগ নিতে সেই মাঠ পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ড. কেরামত আলী| সোমবার দুপুরে তিনি এই মাঠ পরিদর্শন করেন|
এসময় সেসব জমির শতাধিক মালিক উপস্থিত ছিলেন| ভূমি মালিক আব্দুল আওয়াল, সাদিকুল ইসলাম, শামসুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, নাজির হোসেন, আব্দুল মালেক ও আলী হোসেনসহ উপস্থিত সকলেই জানান, ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে উজিরপুর ও রাধাকান্তপুর মৌজার কয়েক হাজার বিঘা জমি নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যায়| কিন্তু কয়েক বছর পর ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যেই সেই জমি আবার জেগে উঠে এবং মালিকরা নিজ নিজ জমি চাষাবাদ শুরু করে| আম, বরই, কলা, ধান ও ভুট্টাসহ প্রায় সব ফসলই চাষ হচ্ছে এসব জমিতে| তারা জানান, জমির খাজনা দিতে গেলে তারা জানতে পারেন এইসব জমি সিকস্তি পর্যায়ে আছে; ফলে খাজনা নেয়া যাবে না বলে ভূমি অফিস জানায়| এরপর থেকে আমরা বিভিন্ন অফিস-আদালত ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে সংসদ সদস্যের শরণাপন্ন হয়েছি|
এদিকে এতগুলো জমির খাজনা আদায় না করায় রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়েও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলেও জানিয়েছেন অনেকেই| সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে অনতিবিলম্বে এই দুটি মৌজার সকল জমির খাজনা চালু করতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে জোর দাবি জানানা এসব জমির মালিকরা|
এদিকে ভুক্তভোগী কৃষক ও ভূমি মালিকদের এই ভোগান্তি রোধকল্পে মাঠ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী বলেন, এই এলাকার দুটি মৌজার কয়েক হাজার বিঘা জমির কয়েকশ মালিক ভুক্তভোগী রয়েছে| তারা তাদের নিজস্ব জমির খাজনা দিতে পারছে না, এটি দুঃখজনক| তাদের বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি|
এসময় এই দুটি মৌজার ব্যক্তিগত সকল জমির খাজনা চালু করতে ভূমি মালিকদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ড. কেরামত আলী|