বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
বাংলাদেশ ব্যাংক-পিকেএসএফ’র মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর বিজিবির অভিযানে শিবগঞ্জে জব্দ মোটরসাইকেলসহ ভারতীয় সিরাপ গোমস্তাপুরে মাদকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শীর্ষক সেমিনার দেড় হাজার গাছের চারা রোপণ করবে অগ্রণী সেচ প্রকল্প শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অনলাইন জুয়ার মহামারি প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌযান শুমারি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অক্টোবরের মধ্যেই ৫ বিভাগে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে গণমাধ্যম : তথ্যমন্ত্রী
Printed on: August 19, 2026
May 15, 2026
শিবগঞ্জ
শিবগঞ্জ

সোনামসজিদ স্থলবন্দর পাথর আমদানি বন্ধ

Published: May 15, 2026 at 02:03 PM
সোনামসজিদ স্থলবন্দর পাথর আমদানি বন্ধ

শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত ১৫ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে| ভারতীয় রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের ট্যারিফ বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের পাথর আমদানিকারকরা| 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে থেকে ভারতের মহদীপুর রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (শুল্কায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্য) পাথরের ক্ষেত্রে টন প্রতি ১৩ ডলারের পরিবর্তে ২ ডলার বাড়িয়ে ১৫ ডলার নির্ধারণ করে| এরফলে টানা ১৫ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যায়| এতে করে একদিকে সরকার যেমন রাজ¯^ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে বন্দরে কর্মরত প্রায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে| বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের আয় কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে|

এই অচলাবস্থার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে এসেছে| এক সময়ের কর্মব্যস্ত বন্দরটি এখন কোলাহলমুক্ত এবং পাথরবাহী ট্রাকের আনাগোনা না থাকায় চারদিকে প্রায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে|

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ১০ বছর আগে ফল আমদানি চালু থাকায় প্রতিদিন গড়ে ভারত থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ পণ্যবাহী ট্রাক আসলেও ৮ বছর ধরে ফল আমদানি বন্ধের কারণে ট্রাকের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে| ৬ শতাধিক ট্রাকের মধ্যে ৪ শতাধিক ট্রাকে আমদানি হতো পাথর| কিন্তু গত ১ মে থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হওয়ায় ট্রাকের সংখ্যা কমে এসেছে একশ’র নিচে|

গত ১২ মে ভারত থেকে ˆখল, ভুট্টা, কসমেটিক্স, ভুট্টার গুঁড়া, বড়ি এবং সজনে ডাঁঠা মিলিয়ে ২৬ ট্রাক এবং পরদিন ৫৬ ট্রাক পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে| ১৪ মে বৃহষ্পতিবার বেলা ৪ টা পর্যন্ত ৭১ পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে|

আরিশা ট্রেডার্সের ¯^ত্বাধিকারী আলমগীর জুয়েল বলেন, লোকসান দিয়ে ব্যবসায়ীরা পাথর আনতে ইচ্ছুক নন এবং এই বর্ধিত ভ্যালু প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আমদানি কার্যক্রমে ফিরবেন না| তিনি আরো বলেন, ভারতীয় রপ্তানিকারকদের এমন সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ| এতে করে ফলের মতই পাথর আমদানিতে একটা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হলো|

অপর আমদাননিকারক সাইফুল ইসলাম জানান, আমদানিকারকদের দাবি-আমদানিকৃত পাথরের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশই নিম্নমানের থাকে যা কোনো কাজে আসে না| এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি ২ ডলার শুল্কায়ন মূল্য পরিশোধ করে পাথর আমদানি করলে তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে|

সূত্রটি জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ ষোষ ¯^াক্ষরিত এক প্রেস নোটে জানানো হয়েছে, গত ৯ মে বাংলাদেশ আমদানিকারক সংগঠনের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পাথর রপ্তানির বিষয়ে  পূর্বের সিদ্ধান্ত পূণবিবেচনার বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে টনপ্রতি অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১৫ ডলারই বহাল রাখা হয়েছে| ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় পাথর রপ্তানিতে আনুসঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতি ¯^ীকার করে পাথর রপ্তানি করা সম্ভব নয়| 

সোনামসজিদ আমদানি-রাপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি গৌড় বাংলাকে বলেন-২০১৪ সালে ভারত-বাংলাদেশের উচ্চ পর্য়ায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রতি টন পাথর আমদানি ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয় ১৩ ডলার| সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের অন্যান্য সকল বন্দরে এই নিয়ম চালু ছিল| হঠাৎ করেই ভারতের মহদিপুর বন্দরের রপ্তানিকারকরা প্রতি টনে ২৩ ডলার বৃদ্ধি করেছে| এই রেটে না নিলে তারা পাথর দিচ্ছেন| এনিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ˆবঠক হয়েছে| আজ শনিবার উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে একটি ˆবঠকের চেষ্টা চলছে| 

এ দিকে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের সিনিয়র ব্যবস্থাপক টিপু সুলতান গত বৃহস্পতিবার বলেন, গত ১৪ দিন ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে| আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শুল্কায়ন মূল্যের এই জটিলতা সমাধান না হলে বন্দরের রাজ¯^ আদায়ে যেমন ধস নামবে, তেমনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠবে| পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এখানকার কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়া ও বন্দর পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়বে|