রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 18, 2026
October 18, 2026
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরো উন্নত হলো মেটার নতুন এআই মডেল

Published: October 18, 2026 at 12:29 PM
আরো উন্নত হলো মেটার নতুন এআই মডেল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নত মডেলের প্রতিযোগিতায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি ‘মিউজ ওয়ান্ডার’ ও ‘মিউজ ওয়ান্ডার ফুল’ নামে দুটি নতুন এআই মডেল উন্মোচন করেছে। মেটার দাবি, জটিল কাজ সম্পাদন, কোড লেখা এবং বিভিন্ন তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে মডেল দুটি উন্নত সক্ষমতা দেখিয়েছে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, কয়েকটি মানদণ্ডে এগুলোর পারফরম্যান্স জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ফেবল ৫.১-এর কাছাকাছি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাব নতুন মডেল দুটি প্রকাশ করে। মেটার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি এত দিন হালকা ও দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এআই মডেল তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। নতুন মডেল দুটি তুলনামূলক বড় এবং জটিল কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর আগে মেটা ‘মিউজ স্পার্ক’ নামে একটি এআই মডেল প্রকাশ করেছিল। কম সময়ে উত্তর দেওয়া এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি ছিল ওই মডেলের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, নতুন মিউজ ওয়ান্ডার মডেলগুলোকে আরও জটিল কাজ সামলানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। মেটার প্রকাশিত মডেল কার্ড অনুযায়ী, বিভিন্ন মানদণ্ডে মিউজ ওয়ান্ডার ও মিউজ ওয়ান্ডার ফুলের ফলাফল ফেবল ৫.১ এবং জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার সঙ্গে তুলনীয়। তবে এসব ফল মেটার নিজস্ব পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাধীন পরীক্ষায় মডেলগুলোর সক্ষমতা কেমন হবে, তা যাচাই করা বাকি। নতুন মডেলগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য মনে রাখা এবং সেগুলো একত্র করে কাজে লাগানো। মেটা এ সুবিধাকে বলছে ‘অ্যাকটিভ মেমোরি’ বা সক্রিয় স্মৃতিশক্তি। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দ সম্পর্কে পাওয়া তথ্য কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস পরও কাজে লাগাতে পারবে এমন এআই সহকারী তৈরি করা। মেটার গবেষক কাভিয়া কোপারাপু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে মনে রাখার সক্ষমতা তৈরিতে ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। মেটার দাবি, মেমোরিবেঞ্চ পরীক্ষায় মিউজ ওয়ান্ডার ফেবল, ওপাস ও অ্যাস্ট্রার চেয়ে বেশি স্কোর করেছে। এ পরীক্ষায় দীর্ঘ সময় ধরে শেখা এবং তথ্য মনে রাখার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। দাম ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মডেল দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মেটার মডেল এপিআইয়ের মাধ্যমে মিউজ ওয়ান্ডার ব্যবহার করতে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের জন্য চার ডলার এবং প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের জন্য ২০ ডলার দিতে হবে। তবে মিউজ ওয়ান্ডার ফুল শুধু মিউজ কোডের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ মডেল এপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না। দুটি মডেলই মেটার এআই এজেন্টকে শক্তিশালী করতেও ব্যবহৃত হবে। মেটার নতুন মডেল দুটি তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রমিথিউস ডেটা সেন্টারে। গত বছরের আগস্টে মেটার এআই কার্যক্রম পুনর্গঠনের পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় ধরনের উন্নত এআই মডেল প্রকাশের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে উন্নত এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করতে চায় মেটা।