রফিকুল ইসলাম
সোনার সিংহাসনে বসা এক মায়াবী জাদুকর,
তার আদিম ক্ষুধার থালায়—
উৎসর্গ হতে থাকে সমস্ত বুনো অরণ্য ।
নগরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বোনা এক অদৃশ্য মাকড়সার জাল,
যেখানে নিয়মের সুতোগুলো এক একটি ধারালো তরবারি,
আর দর্পণের ওপারে বসে থাকা একজোড়া পাথুরে চোখ
মেপে নেয় প্রতিটি নিশ্বাসের ওজন।
মহীরুহ চায় সমস্ত লতা তার পায়ে নুয়ে পড়ুক,
মেঘেরা বয়ে আনুক শুধু তার সাজানো বাগানের বৃষ্টি;
উন্নয়নের চটকদার মরীচিকার বিজ্ঞাপনে আজ
নদী হারিয়েছে তার আজন্মের মোহনা।
এখানে আলো আর ছায়ার মাঝখানে ন্যায়বিচার হলো—
দুটো বুনো পাথরের চাপে পিষ্ট হওয়া এক মুঠো নরম ঘাস।
একটি ডানার সামান্য ঝাপটানি,
কিংবা বাতাসের একটি অবাধ্য শিস—
আর অমনি কেঁপে ওঠে কাঁচের তৈরি সেই সাজানো খাঁচা।
ওরা উৎসবের আলো জ্বেলে সাম্যের বাঁশি বাজায়,
অথচ মাটির প্রদীপে নিভে যায় শেষ তেলের বিন্দু।
আসলে বনের ছোট ছোট পাতাগুলো—
কোনো স্বাধীন অরণ্য নয়;
তারা কেবলই ঝড়ের রাতে ঝরে পড়া
অসংখ্য নীরব দীর্ঘশ্বাসের সমান্তরাল খণ্ডচিত্র।
তবুও শেকড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অবাধ্য বীজ,
পাথরের বুক চিরে,
আলোর দিকে হাত বাড়িয়ে একাই লড়ে যায়।