কামাল সালেহীন
ছেলেটির চোখে ঘুম ছাড়া অন্য কিছু নেই
সে সারা রাত জেগে গ্লাসে মদ ঢালে
তথাপি, কখনো স্পর্শ করেনি মদের অন্তর
সবাই তাকে বলে ক্যাসিনো বয়।
শোনা যায়, বাবা তার ফেরারি
মা থাকে ঔপনিবেশিক মহল্লায়
যেখানে সে প্রতি রাতে চর্চা করে গণতন্ত্রের।
এক বেশ্যা ওকে আশ্রয় দেয়—
তখন সে কথা বলতে শিখেনি,
চোখে চোখ রেখে।
এখন সে শব্দকে গান বানায়
গলায় দারুণ সারগাম
বারো পেরোয়নি বয়স,
অথচ চোখে জমেছে বরফ।
এই বয়সে তার স্কুল ক্যাসিনো ক্লাব
জুয়ারিরা সব শিক্ষক!
কী অদ্ভুত গণতন্ত্র!
রাত্রির মধ্যে ডুবে যায় তার চোখের পাতা
তারায় তারায় হয়ে যায় অন্ধ
প্রহরীদের পদশব্দ তাকে করে সচেতন
ময়লা প্রস্রাবখানার আয়নাতে খুঁজে
নিজের ভবিষ্যতের প্রতিবিম্ব।
আশেপাশে অপেক্ষা করে
আহত রাতের অবসন্নতা
ফাটল ধরে আয়নাতে
নৈঃশব্দ্যের দেয়াল গড়িয়ে পড়ে
সভ্যতার অসভ্যতা।
রাত্রির দূষিত আস্তরণ ঢেকে দেয়
নরম অক্সিজেন।
যুবকের সুপ্ত চিৎকারে
উষ্ণতা বাড়ে ব্যারোমিটারের পারদের
ভিজা কণ্ঠে পাপের উপকণ্ঠে চলে
পৃথিবীর নৃত্য
মদ ও রুটির শান্ত সহাবস্থান
হাওয়ার শব্দ, হাওয়ার স্পর্শ ;
তারপর....।
ছেলেটির চোখের গভীরে ছড়িয়ে পড়ে
মৃত্যুর ঘুম
বাধাপ্রাপ্ত যৌবন
মৃত্যুর রূপ
আর কিছুই নেই।
একখণ্ড নগ্ন ঘাস ভেসে যাচ্ছে বৃত্তে।