সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
ঘরোয়া উপকরণেই উজ্জ্বল করুণ আপনার ত্বক জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট : টাইব্রেকারে সদরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন গোমস্তাপুর প্রয়াসের মাসিক সমন্বয় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপৎসীমার ৯৪ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি এবার ৫৩ বিজিবির উদ্যোগ : সীমান্ত এলাকার ৩৫ বেকার যুবককে কারিগরি প্রশিক্ষণ বিপিএইচসিডিএ’র মতবিনিময় সভা : মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ : পর্যালোচনা সভায় নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠায় ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ ইতিহাসে প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বার্সার অধিনায়ক হলেন রাফিনহা মাঝমাঠে দ্যুতি ছড়ালেন সামিত সোম
Printed on: September 07, 2026
September 06, 2026
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

রোবোটিক্স প্রযুক্তিতে চীনের দাপট

Published: September 06, 2026 at 10:14 AM
রোবোটিক্স প্রযুক্তিতে চীনের দাপট

কারখানায় মানুষের কাজ সহজ করতে রোবট ব্যবহারের প্রবণতা নতুন নয়। কিন্তু চীন এই প্রযুক্তিকে শুধু শ্রমিকের বিকল্প হিসেবে দেখছে না। উৎপাদন, গুদাম, পরিবহন, লজিস্টিকস থেকে শুরু করে পরিষেবা শিল্পের বিস্তৃত পরিসরেই রোবটকে যুক্ত করে তৈরি হচ্ছে নতুন এক প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো। এর ফলে বদলে যাচ্ছে উৎপাদনের পুরোনো হিসাব, কমছে খরচ এবং একই সময়ে বাড়ছে উৎপাদনক্ষমতা। বর্তমানে চীনে ব্যবহৃত শিল্প-রোবটের সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি। এই বিপুল সংখ্যক রোবট দেশটির শিল্প ব্যবস্থায় অটোমেশনের মাত্রা কতটা বেড়েছে, তারই ইঙ্গিত দেয়। শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, নতুন রোবট স্থাপনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে চীন।


বিশ্বের নতুন রোবটের বড় অংশই যাচ্ছে চীনে

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রোবোটিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনে প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার নতুন শিল্প-রোবট বসানো হয়েছিল। ওই বছর গোটা বিশ্বে যত নতুন শিল্প-রোবট স্থাপন করা হয়েছে, তার প্রায় ৫৪ শতাংশই ছিল চিনের দখলে। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, শিল্প অটোমেশনের ক্ষেত্রে বেইজিং কতটা দ্রুত এগোচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বড় আকারের কারখানাগুলোকে আরও দক্ষ করে তুলতেই রোবট ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে।


কারখানার বাইরে বাড়ছে রোবটের ব্যবহার

চীনের রোবট বিপ্লব শুধুমাত্র উৎপাদন লাইনে সীমাবদ্ধ নেই। কারখানায় যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানো, পণ্য তৈরি বা প্যাকেজিংয়ের পাশাপাশি গুদাম পরিচালনা, পণ্য সরবরাহ এবং লজিস্টিকসের মতো ক্ষেত্রেও অটোমেশন বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে একই পরিকাঠামোর মধ্যে কম সময়ে বেশি কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে মানুষের পাশাপাশি রোবট কাজ করায় নির্দিষ্ট কিছু কাজ আরও দ্রুত এবং নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।


যত ব্যবহার বাড়ছে, তত কমছে খরচ

চিনে বিপুল সংখ্যক রোবট ব্যবহারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তি যত বেশি ব্যবহার করা হয়, সেটিকে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী করে তোলার সুযোগ তত বাড়ে। রোবটের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। 


বিপুল ব্যবহার থেকে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ‘লার্নিং লুপ’। অর্থাৎ বাস্তবে রোবট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ছে। ফলে সময়ের সঙ্গে রোবট পরিচালনা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অটোমেশনের খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


শুধু রোবট কিনছে না চীন

চীনের কৌশলের সবচেয়ে বড় দিক সম্ভবত এখানেই। দেশটি কেবল বিদেশি সংস্থার তৈরি রোবট কিনে কারখানায় বসিয়ে থেমে থাকছে না। রোবটকে ঘিরে নিজেদের একটি সম্পূর্ণ শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, কন্ট্রোল সিস্টেম, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য অ্যাপ্লিকেশন সবকিছুকে একই বাস্তুতন্ত্রের অংশ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে রোবটের প্রয়োজন হলে যাতে প্রযুক্তির প্রতিটি স্তরের জন্য অন্য দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে না হয়, সেই প্রস্তুতিও চলছে।


সামনে লক্ষ্য আরও বড়

চীনের এই মডেল থেকে স্পষ্ট, রোবটকে তারা শুধু শ্রমের বিকল্প হিসেবে দেখছে না। বরং উৎপাদন ব্যবস্থার সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। বিপুল সংখ্যক রোবটের ব্যবহার যেমন শিল্পে অটোমেশন বাড়াচ্ছে, তেমনই সেই ব্যবহার থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং ব্যবসার সুযোগ। ফলে চীনের রোবট বিপ্লবের আসল পরিবর্তন হয়তো শুধু কারখানায় মানুষের জায়গায় যন্ত্র বসানো নয়। বরং রোবটকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ থেকে সফটওয়্যার, উৎপাদন চীনের রোবট-নির্ভর উৎপাদন মডেল ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।