চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মারা গেছে মাইশা নামের আরো এক শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১০৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারীসহ ৫৬ জনকে জেলা হাসপাতালে, ২ জন পুরুষকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৭ জন পুরুষকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১ জন পুরুষকে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ৩ জন পুরুষ রোগীকে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৪০ জন সাধারণ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশু মাইশা (৪) চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পিটিআই এলাকার আব্দুল বাসিরের কন্যা।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহবুব হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন— মাইশাকে গত ১১ অক্টোবর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে কাউকে কিছু না বলে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যান পরিবার। আজ তার অবস্থা খারাপ হলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ডাক্তার দ্রুত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। কিন্তু আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যখন নিয়ে আসে তার আগেই শিশুটি মারা যায়। এটি জেলা হাসপাতালের পরিসংখ্যানে না উঠলেও ডেঙ্গুতেই মারা গেছে— এটা নিশ্চিত। কারণ সে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বুধবার জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে ২৮ জন, শিবগঞ্জ থেকে ৪ জন, গোমস্তাপুর ও নাচোল থেকে ১ জন করে রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। একই সময়ে অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে ৩ জন ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফলে বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৪ জনে। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৫২ জন পরুষ ও ৫৫ জন নারীসহ ১০৭ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ ৮ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ পুরুষ ও ১ জন নারীসহ ১৫ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারীসহ ৩ জন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ ১১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চলতি বছরে জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ২ হাজার ৫৮৭ জন রোগী।