আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে বিতর্কিত পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস খুলেছে কলম্বিয়া। গতকাল বুধবার দূতাবাস উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শহরটিতে দূতাবাস স্থাপনকারী দশম দেশ হলো দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী তুর্কি সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার, কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর বুলা এসকোবার এবং পশ্চিম জেরুজালেমের মেয়র মোশে লিয়ন। লিয়ন বলেন, এর ফলে পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরকারী দশম দেশ হলো কলম্বিয়া। ২০২৪ সালের মে মাসে তৎকালীন কলম্বিয়া সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। পরে ২০২৬ সালের আগস্টে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এর পরই পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নিল কলম্বিয়া। প্রসঙ্গত, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু জেরুজালেম। ইসরায়েল পুরো শহরটিকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। জাতিসংঘের প্রস্তাবসহ দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অবস্থানেও এ দাবির প্রতিফলন রয়েছে। ১৯৮০ সালে পূর্ব জেরুজালেমকে একীভূত করে নেয় ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ পদক্ষেপকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। একই বছরের আগস্টে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৭৮ নম্বর প্রস্তাবে জেরুজালেমের চরিত্র ও মর্যাদা পরিবর্তনে ইসরায়েলের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
পাশাপাশি, শহরটিতে কূটনৈতিক মিশন থাকা দেশগুলোকে সেগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। বিতর্কিত মর্যাদার কারণে অধিকাংশ দেশ জেরুজালেমের পরিবর্তে তেল আবিব বা আশপাশের এলাকায় দূতাবাস পরিচালনা করে। শহরটির চূড়ান্ত মর্যাদা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণের আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবেই এ নীতি অনুসরণ করা হয়। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, কলম্বিয়ার নতুন এই দূতাবাসকে নিয়ে পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস থাকা দেশের সংখ্যা দাঁড়াল ১০। অন্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কসোভো, প্যারাগুয়ে, পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি, নাউরু এবং সোমালিল্যান্ড। এর মধ্যে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে শুধু ইসরায়েল।