- * বাড়ছে মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানিও
- * বন্ধ ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- * ৫৬.৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল আক্রান্ত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি হুহু করে বাড়ছে। এর মধ্যে পদ্মা নদীর পানি সতর্কসীমা পার হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ায় জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে বসবাসরত নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ৫৬.৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল আক্রান্ত হয়েছে। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে মহানন্দার পানি বিপৎসীমার ১.২২ মিটার ও পুনর্ভবা নদীর পানি ২.২২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধি হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন— যেসব পরিবার মাটি তুলে উঁচুতে বসবাস করছে, তারা এখনো ডুবেনি। তবে যারা নিচু জায়গায় বসবাস করছে, তারা এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার হবে। তিনি আরো জানান, রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।
নাজির হোসেন বলেন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদসহ প্রশাসনের একটি টিম বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। যোগাযোগের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা। তিনি আরো জানান, ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসা বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে চরের মানুষ গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়বে।
এদিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, পাঁকা ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তার মধ্যে সাড়ে ৩০০ পরিবারের উঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নৌকা ছাড়া এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগযোগ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নদীও ভাঙছে। ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এছাড়াও শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের আরো আন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।
তবে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন— বন্যায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব জানিয়েছেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল (আজ) শুক্রবার পর্যন্ত পানি বাড়বে। এরপর থেকে পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন— বন্যার কারণে সদর উপজেলায় ২টি ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, জেলার ৫ উপজেলায় বৃষ্টি ও বন্যায় ৫৬.৫ হেক্টর ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ধান ২.৯ হেক্টর, আমন ৪ হেক্টর, মাসকলাই ৩১.৫ হেক্টর, শাকসবজি ১৪.২ হেক্টর, গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা ৩.৪ হেক্টর, হলুদ ০.৫ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।