শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 11, 2026
September 10, 2026
জাতীয়
জাতীয়

অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধই সরকারের লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী

Published: September 10, 2026 at 01:05 PM
অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধই সরকারের লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না।’

বৃহস্পতিবার ঢাকায় সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমকে দমিয়ে রাখা হতো। গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে যেন এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক (ডুয়াল মিনিং) শব্দ না থাকে, যা আগামীতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাকে বিনষ্ট করছে। আমাদের প্রধান কাজ হলো এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটো বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা চলছে।’

আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কেবল কঠিন আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে যে কোনো মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার দেওয়াও যে অপরাধের আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে সকালে কন্সালটেশন সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেয়া অপরিহার্য। এজন্যই আমরা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন, একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা— এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।’

গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই আইন সংশোধন করছি না। প্রিন্ট মিডিয়ার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের কোথায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা আছে, আপনারা মুক্তমনে পরামর্শ দিন। আমরা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।’

কন্সালটেশন সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইনটির যেন অপব্যবহার না হয় সে লক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে একটি যুগোপযোগী আইনের বিকল্প নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করে যেন আইনটি পরিমার্জন করা হয়, যাতে এর কোনো অপব্যবহার বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।’

সভায় অংশ নিয়ে আরো বক্তব্য দেন— ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।

সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।

সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্টজন তাদের মতামত দেন।