সেই ছোটবেলা থেকেই যার পড়াশোনার স্বপ্ন, তিনি কী বড় হয়ে সেই স্বপ্ন ভুলে যেতে পারেন। তাই তো সংসার সন্তান ও পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনার স্বপ্ন জেগে থাকে নাসিমুলের মনে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর ৪৫ বছর বয়সে এসেও এসএসসি পাস করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
নাসিমুলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের তিলোকী গ্রামে। চলতি বছর রাজশাহী কমার্স কলেজ (ভোকেশনাল) থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৬২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
নাসিমুল হক পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। পাশাপাশি তিনি ভোলাহাট উপজেলা ফার্নিচার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনর ঝড় ওঠে। এ বয়সে কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে ভালো ফল করায় অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে নাসিমুল হক বলেন, সংসার সামাল দিতে সারাদিন চরম ব্যস্ততার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ২০০২ সালে পড়াশোনা ছেড়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল। এরপর আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। তবে মনের মধ্যে পড়াশোনা করার অদম্য স্বপ্নটা সবসময়ই ছিল। সেই স্বপ্ন থেকেই আবার ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করি। ফল হাতে পেয়ে আজ খুব ভালো লাগছে।
নাসিমুলের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। সন্তানদের জন্যও তিনি গর্বিত হতে চান এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে চান- বলেন নাসিমুল।
বয়স কখনো পড়াশোনার পথে বাধা হতে পারে না। ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বয়সেই পড়াশোনা করে সফল হওয়া সম্ভব। এসএসসি পাসের পর নাসিমুল হক পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিলোকী গ্রামের স্থানীয়রা বলেন, নাসিমুল হক দীর্ঘদিন ধরে কাঠমিস্ত্রির কাজ করছেন। কাজের পাশাপাশি ৪৫ বছর বয়সে পড়াশোনা করে এসএসসি পাস করা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার সাফল্য এলাকার অন্যদেরও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করবে।
ভোলাহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. লোকমান আলী বলেন, সংসারের দায়িত্ব পালন করে একজন মানুষ যে ৪৫ বছর বয়সেও পড়াশোনা করে ভালো ফল করতে পারেন নাসিমুল হক তার উদাহরণ। তার এই অর্জনে আমরা আনন্দিত এবং তাকে অভিনন্দন জানাই।