রবিবার ০৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 04, 2026
October 04, 2026
জাতীয়
জাতীয়

অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে তিন মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

Published: October 04, 2026 at 12:45 PM
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে তিন মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার পরিশোধের প্রস্তুতি রয়েছে। 

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি আইবাস প্লাস প্লাসের (রইঅঝ++) পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে প্রত্যেক চাকরিজীবীকে নিজের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় যাচাই করার পর বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হবে। 

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে বকেয়া হিসাব করতে হবে। তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। নতুন ও আগের মূল বেতনের পার্থক্য, সংশ্লিষ্ট গ্রেড, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।

পে ফিক্সেশনের জন্য চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্ম তারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ইতিহাস থাকলে সেসব তথ্যও দিতে হবে। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে কোনো গরমিল থাকলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরও প্রয়োজন হবে। কোনো চাকরিজীবীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। 

অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই-বাছাই করবে। শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। আগের চাকরির ইতিহাস, বেতন নির্ধারণের তথ্য এবং নতুন দেওয়া তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। তথ্য বা নথিতে কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। অনলাইনে তথ্য দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেয়া যাবে।

বেতন নির্ধারণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির (এসপিএফএমএস) আওতায় আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবহারের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক, জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিচ্ছেন।

ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতন

দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যবধানে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর বেতন ও ভাতা ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রচলিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা হবে। 

প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। 

চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন বিল তৈরি হবে। একই সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বকেয়া পাওনার হিসাবও চূড়ান্ত করা হবে। 

অর্থ বিভাগ সূত্র বলছে, পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর এসব বকেয়া একসঙ্গে পরিশোধের প্রস্তুতি রয়েছে। খবর এফএনএস।