রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 09, 2026
August 09, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

টাইফুন ডলফিনের আশঙ্কায় চীনে ফ্লাইট বাতিল, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া শুরু

Published: August 09, 2026 at 01:28 PM
টাইফুন ডলফিনের আশঙ্কায় চীনে ফ্লাইট বাতিল, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া শুরু

টাইফুন ডলফিনের আঘাতের আশঙ্কায় চীনের ঘনবসতিপূর্ণ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে রোববার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির কারণে ইতোমধ্যে ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রাষ্ট্রীয় সমপ্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, রোববার সাংহাইয়ের দুটি প্রধান যাত্রীবাহী বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতকারী প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।প্রতিবেশী ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু বিমানবন্দরেও আসা-যাওয়ার ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। টাইফুন ডলফিন সামপ্রতিক দিনগুলোতে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

এটি রোববার গভীর রাতে অথবা আজ সোমবার ভোরে ঝেজিয়াং কিংবা পাশের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ওকিনাওয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী এক ব্যক্তিও রয়েছেন। ঝোড়ো বাতাসে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওকিনাওয়ার তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, রোববার বিকেল পর্যন্ত ওকিনাওয়ার ৫ হাজার ২৯০টি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল। তাইওয়ানেও ঝড়ের প্রভাবে রোববার দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস বয়ে যায়। ফলে কয়েক ডজন ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয় এবং ১৮০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) রোববার সকালে টাইফুন নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করেছে। এটি দেশটির সবচেয়ে গুরুতর আবহাওয়া সতর্কতা। কেন্দ্রটি ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ‘অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের’ পূর্বাভাস দিয়েছে। এনএমসি জানিয়েছে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত সাংহাই এবং ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের কিছু এলাকায়ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। চীনের স্থলভাগে আঘাত হানার পর টাইফুন ডলফিন উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ঝড় আসার আগেই গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুজিয়ানের ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ থেকে প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিনহুয়া আরও জানিয়েছে, ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে ২০০টির বেশি ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, এ ছাড়া সমুদ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং গত শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৭৪টি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত জাহাজকে বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কিছু ট্রেন চলাচলও রোববার বন্ধ রাখা হয়েছে। চীনে টাইফুন ডলফিনের আঘাতের আশঙ্কার দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হেনেছিল টাইফুন নউল। সে সময় কর্তৃপক্ষ এটিকে চলতি বছরে চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। চীনে আঘাত হানার আগে ফিলিপাইনে টাইফুন নউলের তাণ্ডবে তিনজন নিহত এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।