যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যে একের পর এক এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনরাত লড়াই করছেন দেড় হাজারেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী। আগামী সপ্তাহের শুরুতে আবহাওয়া আরো শুষ্ক ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকায় দ্রুততম সময়ে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুনে ইতিমধ্যে প্রায় ৮৫০টি ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুযোর্গ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি রাজ্য থেকে আসা দেড় হাজারেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করায় গত সোমবার থেকে দাবানল নতুন করে মাত্র ২ একর এলাকায় ছড়িয়েছে।
তবে আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, এছাড়াও তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া ‘ক্যালিফোর্নিয়া ইন্টারএজেন্সি ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমে’র মুখপাত্র টম স্টোকসবেরি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অসাধারণ অগ্রগতি’ হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি আমাদের নিরাপত্তা বেষ্টনী এই সপ্তাহান্ত পর্যন্ত আগুন আটকে রাখতে পারে, তাহলে আমরা এর বিস্তার পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারব। তবে পুরো এলাকা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগবে।” এখন পর্যন্ত এই ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৬৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত ‘ওল্ড ট্রেইলস’ এবং ‘অটাম লেন’ দাবানলের ১৩ শতাংশ এবং ‘ফেয়ারভিউ’ দাবানলের ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে এই তিন দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ৫৪৬ একর বনভূমি ও এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
টম স্টোকসবেরি আরো জানান, অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা বর্তমানে নতুন কোনো আগুনের উৎস তৈরি হচ্ছে কি না তা খুঁজে বের করে দ্রুত নেভানোর কাজ করছেন। প্রচণ্ড প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমিয়ে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করছেন তারা। উদ্ধারকর্মীরা সাধারণত দুই সপ্তাহের জন্য নিয়োজিত থাকেন; চলতি সপ্তাহান্তেই তাদের সহায়তায় নতুন দল যোগ দেবে। ওয়াশিংটন রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মাইকেল কেলির মতে, ৮০০টিরও বেশি স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় এটি সম্ভবত ওয়াশিংটনের ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী দাবানল। এর আগে ২০২৩ সালে স্পোকেন এলাকার ‘গ্রে অ্যান্ড ওরেগন রোড’ দাবানলে ৩৫০টি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছিল, তবে বর্তমান দাবানলটি ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সামপ্রতিক সময়ের সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।