শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৭ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 03, 2026
July 03, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, সতর্ক করল জাতিসংঘ

Published: July 03, 2026 at 11:33 AM
আরো শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, সতর্ক করল জাতিসংঘ

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে জলবায়ুর উষ্ণ দশা ‘এল নিনো’ ˆতরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে| শুক্রবার জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই এল নিনো মারাত্মক আকার ধারণ করবে| সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্র ও পূর্ব অঞ্চলের নিরক্ষীয় অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে| বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব চেলেস্তে সাউলো চরম আবহাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এই শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি খরা এবং অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে| স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে ম্যারিন হিটওয়েভ বা সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ তৈরি হতে পারে| এই ˆবশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারত উপমহাদেশ, পুরো অস্ট্রেলিয়া এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ভারত মহাসাগরের কিছু অংশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে| অন্যদিকে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং আফ্রিকার গিনি উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে| এছাড়া আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলোতে কম বৃষ্টিপাতের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে| ইউরোপের আবহাওয়াতেও এর মিশ্র প্রভাব দেখা যাবে, যার ফলে মহাদেশটির দক্ষিণ অংশে আর্দ্র বা ভেজা আবহাওয়া এবং উত্তর অংশে শুষ্ক পরিস্থিতি ˆতরি হতে পারে| একই সাথে ভারত মহাসাগর এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আটলান্টিক মহাসাগরের পানির তাপমাত্রাও গড় হিসাবের চেয়ে অনেক গরম থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে| মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে দুই থেকে সাত বছর পর পর এই প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্রটি ˆতরি হয়, যা সাধারণত নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়| এই সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই তাদের বিভিন্ন সংস্থা, বিশ্বের নানা দেশের সরকার, মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোর সাথে সমš^য় করে ˆবশ্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছে| এই উদ্যোগের মাধ্যমে মৌসুমী পূর্বাভাস, জলবায়ু সেবা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়| সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া|