ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন| ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর পক্ষ থেকে একটি ‘আসন্ন ও বড় ধরনের’ হামলার সতর্কতা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়| খবর আল-জাজিরার| বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ছয়টি তলা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে| এই ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে|
রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান ˆতমুর তকাচেনকো জানান, হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ৫৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন| রুশ বাহিনীর ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমার আঘাতে শহরজুড়ে প্রায় তিন ডজন স্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে| হামলার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানান, কিয়েভের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে এক ডজনেরও বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে| ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কতা জারি করার সাথে সাথেই শহরের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেন| এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার দায় ¯^ীকার করে টেলিগ্রামে জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতার আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক ও বিদ্যুৎ জ্বালানি অবকাঠামোতে ‘সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালিয়েছে|
পোলতাভা ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের সামরিক বিমানবন্দরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো| রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন কর্তৃক রুশ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে| এর আগে গত বুধবার আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফেরার ঘোষণা দেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি| তিনি বলেছিলেন, “আমাদের গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পুতিন (রুশ প্রেসিডেন্ট) ইউক্রেনে একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন|” জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা ‘যুদ্ধ শেষ করতে সম্পূর্ণরূপে অ¯^ীকৃতি’ জানানোর অভিযোগও তোলেন| তিনি বলেন, ইউক্রেন ‘সব সম্ভাব্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের’ মাধ্যমে ‘বৈঠক এবং অর্থপূর্ণ আলোচনার’ প্রস্তুতি প্রকাশ করা সত্ত্বেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে| জেলেনস্কি আরো বলেন, পুতিন শুধু ইউক্রেন নয়, প্রতিবেশী দেশ ও সামগ্রিকভাবে ইউরোপজুড়ে আগ্রাসন বিস্তার করছেন| বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে এই হামলা কালীন সময়ে, প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান আকাশে উড়িয়েছিল| তবে পরবর্তীতে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে|