চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ হাজার ২৪০ ও নাচোল উপজেলার ৫ হাজার ৬৫৫ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও রাসায়াানিক সারসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে|
নিজস্ব প্রতিবেদক : সদর উপজেলার ৩ হাজার ২৪০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বিনামূল্যে পাচ্ছেন বীজ ও রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য উপকরণ| সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিফ-২ মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) আমন ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে এইসব প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে|
এর মধ্যে ২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে দেয়া হচ্ছে ৫ কেজি করে উফশী আমন ধানের বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জন্য ১ হাজার ২০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে এন-৫৩ জাতের ১ কেজি করে বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি সার ও এমওপি সার, বালাইনাশক ও পলিথিন এবং শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য ৪০ জন কৃষকের প্রত্যেককে শীতকালীন পেঁয়াজের কন্দ ১৬০ কেজি, ডিএপি সার ২০ কেজি, এমওপি সার ২০ কেজি, বীজ সংরক্ষণ ড্রাম ১টি ও বালাইনাশক ১ কেজি করে দেয়া হচ্ছে|
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এসব উপকরণ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছে|
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন|
এসময় উপজেলা কৃষি অফিসার সুনাইন বিন জামান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপাারভাইজার আব্দুল আলীম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনূর আলম, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুল হক মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন|
নাচোল প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলেও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ ও চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে|
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নাচোল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়| উপজেলার মোট ৫ হাজার ৬৫৫ জন সুফলভোগী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিভিন্ন ফসলের উন্নত বীজ, সার ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়|
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ ড. মু. মিজানুর রহমান|
নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন— উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ& আকরাম| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. সুলতানা রাজিয়া| এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক ইয়াকুব আলী|
রোপা আমন ধানের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে ৩ হাজার ৫০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে|
অন্যদিকে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে ১ হাজার ৩০০ জন কৃষককে ৭ প্রকারের উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড সবজি বীজ (কলমি, লাউ, চালকুমড়া, পালং, শসা, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া) দেওয়া হচ্ছে|
শীতকালীন কন্দ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে ৩০ জন কৃষকের মধ্যে মোট ১৬০ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি, ২০ কেজি এমওপি সার এবং ১টি করে বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ করা হচ্ছে|
এছাড়া ৮০০ কৃষকের মধ্যে মোট ৪ হাজার ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা (জনপ্রতি ৫টি চারা, ২৪ কেজি ˆজব সার ও ৫টি খুঁটিসহ) বিতরণ করা হচ্ছে|
লেবুজাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে ২৫ জন কৃষকের মধ্যে ১২৫টি লেবু ফসলের চারা (জনপ্রতি ৫টি চারা, ২৪ কেজি ˆজব সার ও ৫টি খুঁটিসহ) বিতরণ করা হচ্ছে|