বুধবার ০১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 01, 2026
July 01, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের আইএস ঘাঁটিতে হামলা আফগান সেনাবাহিনীর

Published: July 01, 2026 at 01:33 PM
পাকিস্তানের আইএস ঘাঁটিতে হামলা আফগান সেনাবাহিনীর

গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় যে হামলা চালিয়েছে আফগান সেনাবাহিনী, সেটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগান শাখা ইসলামিক স্টেট খোরাসানের (আইএস-কে) ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে কাবুলে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার| আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে আফগান বিমান বাহিনী গত মঙ্গলবার রাতে (পাকিস্তানের) বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় আইএস-কে’র ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে|” “আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা এসব ঘাঁটি গুলো আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে স্যাবোটাজ অপারেশন এবং বেসামরিকদের হত্যার জন্য ব্যবহার করা হতো|” “কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, অভিযান ছিল গোছানো এবং নির্ভুল|

বেশ কয়েকজন আইএস-কে জঙ্গি এ অভিযানে নিহত হয়েছে, তবে কোনো বেসামরিকের প্রাণহানি হয়নি|” উল্লেখ্য, গত রোববার আফগানিস্তানে বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী| জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের রোববারের বিমান অভিযানে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছিলেন এবং নিহতরা সবাই বেসামরিক ছিলেন| আর আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে সেই অভিযানের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রোববারের বিমান অভিযানে আফগানিস্তানে নিহত হয়েছেন ৩৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬০ জন| পাকিস্তানের এই বিমান অভিযানকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘নৃশংস’ বলেও নিন্দা জানিয়েছে তালেবান সরকার| তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, গত রোববার রাতে আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন আস্তানা লক্ষ্য বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল; সেই অভিযানে ২৯ জন নিহত হয়েছে এবং নিহতরা সবাই পাকিস্তানের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সদস্য ছিল| সরকারিভাবে এই গোষ্ঠীকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ বলা হয় পাকিস্তানে|

রোববারের সেই অভিযানের জবাব দিতেই গত মঙ্গলবার রাতে বেলুচিস্তানের সীমান্তে আফগান সেনাবাহিনী হামলা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে| উল্লেখ্য, ভাষা, ধর্ম, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একসময় মিত্রতা থাকলেও টিটিপিকে ঘিরে গত প্রায় ৫ বছরে চরম তিক্ততায় পৌঁছেছে দু’দেশের সম্পর্ক, বিশেষ করে ২০২১ সালে তালেবানগোষ্ঠী আফগানিস্তান দখল করার পর থেকে| ইসলামাবাদের অভিযোগ—পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য টিটিপিকে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার; তবে তালেবান সরকার সবসময়েই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে| গত কয়েক বছরে এ ইস্যুতে দুই দেশের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা ˆবঠক হয়েছে; কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি| এমন পরিস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত অবস্থায় অপহরণ করে নিয়ে যায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী| এ ঘটনার পরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে পাকিস্তান| পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ ঘোষণা করেন, হামলার জবাব দিতে অপহৃত সেনাদের উদ্ধারে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী| রোববারের হামলার পর আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত অভিযান অপারেশন গজব-লিল হকের অংশ|