মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
বই আলোচনা : আগামী দিনের পথ চলার পাথেয় শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে প্রতি মাসে ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাবেন পুলিশ সুপার গোমস্তাপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা : রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী :মাঠে ছিল বিএনপি মাদককে লাল কার্ড দেখালেন হামিদুল্লাহর শিক্ষার্থীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু সুরক্ষার লক্ষে মতবিনিময় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বাজার সংযোগ বিষয়ক আবাসিক প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে পানি সংকট মোকাবেলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি ও পদায়নে চার স্তরের কমিটি গঠন আইসিসির মাস সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হলেন মুশফিক
Printed on: June 23, 2026
April 21, 2026
জাতীয়
জাতীয়

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই অধ্যাদেশ বাতিল সরকারের সিদ্ধান্ত নয় : তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

Published: April 21, 2026 at 03:50 PM
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার   কারণেই অধ্যাদেশ বাতিল  সরকারের সিদ্ধান্ত নয়  : তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, যেসব অধ্যাদেশ এখনো আইনে পরিণত হয়নি, সেগুলো সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল করেনি; বরং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই সেগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডির সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। 

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কোনো অধ্যাদেশ জারির পর নির্দিষ্ট সময়সীমার (৩০ দিন) মধ্যে সংসদে উত্থাপন করা না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘যেগুলো উত্থাপিত হয়নি, সেগুলো সাংবিধানিক কারণে বাতিল হয়েছে— এটি সরকারের সিদ্ধান্তে বাতিল করা নয়।’

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি ইতোমধ্যে বিল আকারে সংসদে উত্থাপিত হয়ে আইনে পরিণত হচ্ছে। ১৩টি সংশোধনী আকারে গৃহীত হয়েছে, ৭টি রহিত করা হয়েছে এবং বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে বিল হিসেবে সংসদে আনা হবে।

তিনি বলেন, সময়সীমার কারণে কার্যকারিতা হারানো অধ্যাদেশগুলো পুনরায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করা হবে।

তার মতে, এটি একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই।

জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে প্রকৃত ঘাটতির তুলনায় চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

তিনি জানান, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সরবরাহে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই সীমিত ঘাটতির তুলনায় বাজারে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আগে যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল, এখন তা তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত আতঙ্কজনিত মজুতপ্রবণতা এবং অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে তৈরি হয়েছে।’

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি ও অতিরিক্ত চাহিদা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বাড়লে পণ্যের মূল্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকার চেষ্টা করবে যেন সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘যৌক্তিকভাবে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় করা হবে। যতটা কম ক্ষতি করে, কম ভাড়া বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করবে সরকার। তিন স্তরে এসি বাসের ভাড়াও সমন্বয় করা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় চুক্তিকে সম্মান জানাতে হবে। তবে এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হতে পারে এবং চুক্তির সময়কার প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নেয়া হবে।’

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণভোটকে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। যেসব অধ্যাদেশ সাংবিধানিকভাবে বাতিল হয়েছে, সেগুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।’

টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২৬ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে। মোট ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক ঋণ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, ‘আইএমএফের ঋণ নিতে হতে পারে। তবে তাদের সব শর্ত পূরণ করতে দেশ বাধ্য নয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ভর্তুকি কমবে। সরকার ঋণ নিলে তা জনগণের কল্যাণের জন্যই নেবে, এই ঋণ চুরি হবে না।’

অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্ছেদের পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে।