রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, বন্ধ তিন বিভাগের সেবা নাচোলে ঈদগাহ ও গোরস্থানের উন্নতি কল্পে আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সারের জন্য ভোর থেকেই কৃষকের লাইন শিবগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় এমপি কেরামত আলীর শিবগঞ্জ বিজিবি’র অভিযানে জব্দ নেশাজাতীয় সিরাপ, গ্রেপ্তার একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরো ৩ শিশু হাসপাতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৫৫ রোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহভাজন ১ জন শনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনভর্বার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত
Printed on: August 09, 2026
August 08, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, বন্ধ তিন বিভাগের সেবা

Published: August 08, 2026 at 03:32 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, বন্ধ তিন বিভাগের সেবা


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট জনসংখ্যা ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৮ জন| এটি ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য| গত কয়েক বছরে জনসংখ্যা আরো বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই| আর এই পরিমাণ জনসাধারণের জন্য¯^াস্থ্য সেবার প্রধান বাতিঘর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল| কিন্তু বর্তমানে কয়েকটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা|

জানা যায়, এই হাসপাতালে বর্তমানে ১৯টিরও বেশি সেবা চালু আছে| সেবাগুলো হচ্ছে— গাইনি ও প্রসূতি সেবা, নবজাতক ও শিশু  সেবা, ডায়রিয়া ব্যবস্থপনা, দন্ত চিকিৎসা, নাক-কান-গলা সেবা, অপারেশন সার্ভিস (গাইনি, দন্ত, নাক-কান-গলা, সার্জারি, অর্থপেডিক), বহিঃবিভাগ ও জরুরি সেবা, মেডিসিন সেবা, সার্জারি, অর্থোর্পেডিক, এএনসি ও পিএনসি ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনেশান কর্নার, ল্যাব সেবা, এক্স-রে  সেবা, আলট্রাসোনোগ্রাফি ও ডোপ টেস্ট উল্লেযোগ্য| 

তবে এতগুলো সেবা পাবার কথা থাকলেও সব সেবা সবসময় পাওয়া যায় না| কোনো বিভাগে চিকিৎসকের পদ খালি থাকলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন| এই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে সব ধরনের পরীক্ষাও করা যায় না| ফলে হাসপাতালের ডাক্তারকে ১০ টাকার টিকেটে দেখানো গেলেও নামীদামি পরীক্ষা (টেস্ট) বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে করতে হয়| কোনো টেস্ট স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে করতে পাওয়া যায়| আবার কিছু টেস্ট রাজশাহী থেকে করাতে হয়| 


চিকিৎসক সংকট

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ হচ্ছে ১০টি, তার মধ্যে ২টি পদে কর্মরত আছেন আর বাকি ৮টি পদই শূন্য| এছাড়া কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ হচ্ছে ১৭টি, কর্মরত আছেন ১১টিতে এবং শূন্য আছে ৬টি পদ| বিশেষ করে সার্জারি বিভাগে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক না থাকায় বড় অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে| এর ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষকে হয় স্থানীয় কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে বা রাজশাহীতে গিয়ে অপারেশন করাতে হচ্ছে| এছাড়া সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসা| সেই মেডিসিন বিভাগেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞও|

অন্যদিকে মেডিকেল অফিসার, জরুরি মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, সহকারী রেজিস্ট্রার, ডেন্টাল সার্জন ও এমও হোমিওর জন্য মঞ্জুরিতকৃত পদ হচ্ছে ৫৫টি| তার মধ্যে ২৭টিতে কর্মরত থাকলেও ২৮টি পদই শূন্য রয়েছে| ফলে চিকিৎসা বো দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।


প্যাথলোজি বিভাগ

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে প্যাথলজি বিভাগ| এই বিভাগে বর্তমানে আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্স-রে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়| এর বাইরে হৃদরোগী সংক্রান্ত রোগীদের ইসিজি ছাড়া ইকো ও এনজিওগ্রাম করার সুযোগ নেই| কারণ, ইকো মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে| ফলে এই বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও কমমূল্যে ইকোটেস্টের সেবা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন| এছাড়াও আরো নানা রোগের নানান ধরনের পরীক্ষা আছে, যেগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় করা যায় না| 


হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা| হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, টয়লেটগুলোতে ঢোকা যায় না| ঠিকমত পরিষ্কার করা হয় না| 

জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন— রোগীরা অসচেতনতার কারণে যেখানে-সেখানে বিস্কুট বা ফাস্টফুডের খালি প্যাকেট ফেলে দেয়| রোগীদের কারণে টয়লেটগুলো নোংরা থাকে| রোগীরা না বুঝে আবর্জনা টয়লেটে ফেলে দেয়| ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পানি জমে, নোংরা হয়ে পড়ে| 

তিনি বলেন— “কদিন আগেই নতুন কমোড লাগানো হয়েছিল, কয়েকদিন যেতে না যেতেই রোগীরা ভেঙে ফেলেছে| এছাড়া নিষেধ করা সত্ত্বেও সাধারণ টয়লেটে ময়লা আবর্জনা ফেলে নোংরা করে ফেলছে| তুবও চেষ্টা করছি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার| 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার রোগী আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আর গড়ে ভর্তি থাকছেন প্রায় ৬ শতাধিক রোগী| রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিনের| এরই মধ্যে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন চিকিৎসক বদলি হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে| সীমিত জনবল নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে| আর চিকিৎসাসেবা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের|

অন্যদিকে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে একজন জানান, ডাক্তাররা নির্দিষ্ট সময়ে রাউন্ডে আসেন না| কখনো ১০টায় আসেন তো কখনো ১২টায় আসেন| 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন— এই হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসকসহ সবমিলিয়ে মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে ৩৯৬টি| তার মধ্যে ৩০২টিতে জনবল থাকলেও ৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে| শূন্যপদগুলো বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে| আর প্যাথলজি বিভাগের মেশিনপত্রগুলোর জন্যও চেষ্টা চলছে| আশা করছি, দ্রুতই সমাধান হবে|