আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনামলে বৈষম্যের কারণে বেকার হয়ে পড়া সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক বাংলা’, ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ পুনরায় চালু করার জোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘এই গণমাধ্যমগুলোর একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত মূল্য রয়েছে। তাই এগুলোকে পুনর্গঠন করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজে’র মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ ও প্রযুক্তির অনেক কিছু পাল্টালেও আমাদের সকল সাংবাদিক ভাইয়ের কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
আমাদের একজন যোগ্য তথ্যমন্ত্রী আছেন। আমি আশা করব তিনি এই ঐতিহ্যবাহী বন্ধ মিডিয়া হাউসগুলো চালু করতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা চালাবেন।’
প্রয়োজনে অংশীজনদের সাথে নিয়ে নতুন নতুন গণমাধ্যমের ক্ষেত্র তৈরি করে সাংবাদিকদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায় না। ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশালের সময়ও যায়নি, আর বিগত ১৫ বছরের ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনেও তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, বিগত ১৫ বছরের সেই ভয়াবহ দুঃশাসনের ওপর এখনো কোনো যৌথ বা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সংবলিত বই প্রকাশ পায়নি। তিনি সাংবাদিক ও গবেষকদের এই বিষয়ে দ্রুত কাজ করার এবং তথ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে তদারকি করার অনুরোধ জানান।
বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রচেষ্টা চালালেও অন্যদিকে কিছু করপোরেট মিডিয়া হাউসের মালিকরা অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সোমবার আমাদের প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এটি কোনো সভ্যতার মধ্যে পড়ে না, আমি এই অন্যায়ের তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং সাংবাদিক সমাজকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক বা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি সবসময় ভিন্নমত সহ্য করার রাজনীতি করে। ফলে এটিই দেশের সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল, যেখানে সাংবাদিক ও অন্য পেশাজীবীরা সবসময় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারেন। অতীতে বিএনপি যখনই সরকারে এসেছে, দেশে সাংবাদিক নির্যাতন সবচেয়ে কম হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধের যে কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তা যেন আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে আর কখনো ফিরে না আসে, আজকের দিনে সেটিই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেনÑ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেনÑ বিএফইউজে’র সহসভাপতি খায়রুল বাশার, এ কে এম মহসিন, সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।