আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষে সব ধরনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ যোগ্যতাই অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ধারাবাহিক সংস্কার কেবল দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মধ্য দিয়ে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হবে এবং দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। এতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব স্তরের উদ্যোগে নতুন গতি আসবে, উৎপাদন ও রপ্তানির ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের পরিসর বিস্তৃত হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, সুশাসন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধির যে পথ সরকার গ্রহণ করেছে, এই পদক্ষেপসমূহ তারই বাস্তব ভিত্তি নির্মাণ করবে।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে বর্তমান ২৬তম অর্থনীতি (পিপিপি-ভিত্তিক) হতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে শীর্ষ ২০ অর্থনীতির দেশে পরিণত করা।
তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব জনগণকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটির আওতায় আনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামো ও বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।
এছাড়া বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।