ঋতুতে চলছে মধুমাস। জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই মধু মাস। এ মাসেই বাজারে আসে ফলের রাজা আম, লিচুসহ অন্যান্য ফল। আর আম উৎপাদনে এখনও দেশের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
এ জেলায় গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ফজলি, আ¤্রপালি, লক্ষণভোগসহ অন্তত ৩’শ জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে এসব আমের সঙ্গে বেশ ক বছর থেকে যুক্ত হয়েছে সুইট কাটিমনসহ রপ্তানিযোগ্য বিভিন্ন ধরনের আম। বেশ কিছু তরুণ শিক্ষিত উদ্যোক্তা নিরাপদ আম উৎপান করে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করছেন। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাতসহ অন্যান্য আম।
তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চাত্রা ও মোবারকপুর এলাকার দুইজন আমচাষি বিদেশে আম রপ্তানি শুরু করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা বাড়লে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
আম চাষি শামীম রেজা সোহাগ জানান, তিনি রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করছেন ২০২২ সাল থেকে। পরের বছর তিনি বিদেশে আম রপ্তানি করেন ১২ টন এবং সর্বশেষ গত বছর ২৫ টন আম বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছেন। এবার শুক্রবার এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো তিনি দুই টন ব্যানা ও ক্ষিরসাপাত আম ইতালিতে পাঠিয়েছেন। আগামীকাল শনিবার আরো ২টন পাঠানোর কথা রয়েছে। তার বাগানের সর্বমোট ৫০ টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হলেও তিনি সবগুলো আম বিদেশে রপ্তানি করতে পারেন না আর এই কারণে লাভের অংকটা কমে যায়। রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন সহ বিভিন্ন কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারে এর মূল্য না পাওয়ায় তাদের লাভ কম হয় বলে তিনি জানান। বিদেশে আম রপ্তানি বাড়লে কৃষকরা যেমন লাভবান হবে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে বলে মত প্রকাশ করেন।
এদিকে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আমচাষিরা। তবে সেই হতাশার মধ্যেই চলতি মৌসুমে আবারও বিদেশে রপ্তানি শুরু হওয়ায় অনেকেই আশার আলো দেখছেন।
আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। অনেক চাষি বলছেন, বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় বাজারে আমের দাম কম।
গত বছরও আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ রপ্তানি হয়নি। তবে এবার শুরু থেকেই রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের মাধ্যমে বিদেশি বাজার সম্প্রসারণে কাজ চলছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
একদিকে বাজারে কম দাম, অন্যদিকে বিদেশে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা-সব মিলিয়ে আশা আর হতাশার দোলাচলে সময় পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা। তবে রপ্তানি বাড়লে কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।