সোমবার ০১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 01, 2026
June 01, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে আসতে শুরু করেছে রসালো আম

Published: June 01, 2026 at 02:05 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে আসতে শুরু করেছে রসালো আম

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারগুলোয় নামতে শুরু করেছে রসালো ফল গোপালভোগ ও ক্ষিরসাপাত আম। দামও ভালো রয়েছে। এ মৌসুমে তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলার কুরিয়ার সার্ভিসগুলোসহ পরিবহন ও শ্রমিকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আম নিয়ে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, এবার জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। আমগাছগুলোয় মুকুলও ভালো হয়েছিল। বর্তমানে গাছে যথেষ্ট আম রয়েছে। গতবছর ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয়েছিল। এবারের পরিসংখ্যানটা এখনো তৈরি করা হয়নি। তবে আশা করছি, এবার গতবারের চেয়ে বেশি হবে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন- এবার ৩ হাজার কোটি টাকার আমকেন্দ্রিক লেনদেন হবে। 

জানা গেছে, জেলার সর্ববৃহৎ আমবাজার কানসাটে এখনো বেচাকেনা ভালোমতো শুরু না হলেও ভোলাহাট, রহনপুর, নাচোল ও সদরের আমবাজারগুলোতে গোপালভোগ ও ক্ষিরসাপাত আম নামতে শুরু করেছে। 

জেলাশহরের হাসপাতাল সড়কের পাশের আমবাজারের আড়তদার সুকুমার জানান, গোপাল ভোগ ২ হাজার টাকা ও ক্ষিরসাপাত ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। 

একই বাজারের জনি নামের এক ব্যবসায়ী জানান, গোপালভোগ ১ হাজার ৬০০ টাকা ও ক্ষিরসাপাত ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। 

অন্যদিকে কামরুল ইসলাম জানান, ক্ষিরসাপাত বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা, গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। 

মো. জনি নামের আরেকজন জানান, গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ক্ষিরসাপাত বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে। 

একই বাজারে একই আমের দামের এই তারতম্যের ব্যাপারে তারা বলেনÑ আমের সাইজ ও মানের ওপর নির্ভর করে দামের এই কমবেশি। 

এদিকে আম পরিবহনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো। কেউ ব্যবসার জন্য তো কেউ আত্মীয়স্বজনের কাছে আম পাঠাচ্ছেন। আম পরিবহনের অন্যতম বাহন ট্রাকগুলোও আম পরিবহনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে জেলার প্রধান অর্থকরী ফল আমের বাণিজ্যিকীকরণ হওয়ার পর থকে সারা বছরই আমগাছ পরিচর্যার কাজে শ্রমিক প্রয়োজন হয়। তবে আম বাজারজাত করার সময় হাজার হাজার শ্রমিক আমের সঙ্গে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের কেউ গাছ থেকে আম পাড়েন তো কেউ প্যাকেট করেন। একসময় ঝুড়িতে করে আম চালান দেয়া হলেও কয়েক বছর থেকে ক্রেটে করে আম পাঠানো হচ্ছে। এসব শ্রমিকরা গাছ থেকে আম পাড়া এবং ট্রাক তুলে দেয়া পর্যন্ত ব্যস্ত থাকছেন।