মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
শহীদ সাটু কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মীম ফজলে আজিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান আক্তার, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ওমর ফারুক রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোখলেসুর রহমান। অন্যদের মধ্যে শিবগঞ্জ থেকে ছাত্রদল নেতা সারোয়ার জাহান সুজন, নাচোল থেকে মহসিন আরাফাত শামীম ও ভোলাহাট থেকে শাহ আব্দুল আলিম বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুনুর রশীদ বলেন-মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার কলম সবসময় চালু থাকবে। তাদের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধা বৃত্তি চালু করা হবে। জেলা পরিষদের আসন্ন বাজেটে ২০ লক্ষ টাকা এই বৃত্তির জন্য বরাদ্দ রাখব। তোমরা ছাত্র দলের নেতা-কর্মীরা মেধাবীদের খুঁজে বের করো, তাদেরকে বৃত্তির আওতায় আনা হবে।
হারুনুর রশীদ ছাত্রদলকে একটি আদর্শ সংগঠন হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে গ্রুপিং করা যাবে না।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে অনেক কথা বলার ছিল। কিন্তু সময় পেলাম না। এসময় তিনি তাঁর ছাত্র রাজনীতির কথা তুলে ধরে বলেন, জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই আমি বিশ্ববিদ্যায়ে ছাত্রদল করতাম, তাঁকে হত্যার পর আমরাই আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করেছি।
ছাত্রদল নেতারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুর সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন নির্বিচারে এদেশের মানুষ হত্যা করছিল, মানুষ যখন পথ খঁজছিল, তখনই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার পথ দেখিয়ে ছিলেন। ৭৫ পরবর্তী আবারও দিনি দেশের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু এক পিথৎগামী সেনা সদস্য ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে হত্যা করেন। কিন্তু তারপর ৯ বছর স্বৈর শাসকের বিরুদ্ধে অপোসহীন সংগ্রাম করে আবারও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এবার তাঁদরই সযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
আলোচনা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়।