বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 21, 2026
May 21, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

শিশুদের জন্য টিকটক ও ইউটিউব নিরাপদ নয় : অফকম

Published: May 21, 2026 at 01:03 PM
শিশুদের জন্য টিকটক ও ইউটিউব নিরাপদ নয় : অফকম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম টিকটক ও ইউটিউবের কনটেন্ট শিশুদের জন্য এখনো যথেষ্ট নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম| নতুন এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দুই প্ল্যাটফর্ম এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি| প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে অফকম শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল| সংস্থাটি জানায়, মেটা, স্ন্যাপ ও রোবলক্স শিশুদের অনলাইনে প্রলোভন বা ‘গ্রুমিং’ ঠেকাতে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে| খবর বিবিসির| অফকম আরও জানিয়েছে, অনেক প্ল্যাটফর্ম ন্যূনতম বয়সসীমা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে| এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করবে বলেও জানিয়েছে| বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারি পরামর্শ গ্রহণ কার্যক্রম চলছে| ইউটিউব দাবি করেছে, তারা শিশুদের জন্য বয়স উপযোগী ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে| অন্যদিকে টিকটক বলেছে, তাদের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করায় তারা খুবই হতাশ| অফকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকটক ও ইউটিউব শিশুদের কাছে ক্ষতিকর কনটেন্ট পৌঁছানো কমাতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি| প্রতিষ্ঠান দুটি মনে করে, তাদের বর্তমান কনটেন্ট ব্যবস্থাই শিশুদের জন্য নিরাপদ| তবে অফকমের মতে, তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বলছে বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক| প্রযুক্তি বিশ্লেষক ম্যাট নাভারা বলেন, এখন অনলাইন ক্ষতির বিষয়টিকে শুধু কনটেন্ট সরিয়ে দিলেই সমাধান হচ্ছে না| বরং প্রশ্ন উঠছে কেন এমন ক্ষতিকর কনটেন্ট শুরুতেই শিশুদের সামনে পৌঁছাচ্ছে| অফকমের প্রধান নির্বাহী ডেম মেলানি ডস বিবিসিকে বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল| সেটি রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয়| তবে প্রয়োজন হলে কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে অফকম প্রস্তুত বলেও জানান তিনি| অফকমের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী ৮৪ শতাংশ শিশু অন্তত একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, যদিও এসব প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর| এতে সংস্থাটি আরও কঠোর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে| অনলাইন নিরাপত্তা গবেষক অধ্যাপক ভিক্টোরিয়া বেইন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা চালুর পরও ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি| তার মতে, ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত বয়স শনাক্তে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হতে পারে|