চুল পড়ার সমস্যায় কমবেশি সবারই আছে| আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ৯০-১০০টি চুল পড়া ¯^াভাবিক| কখনো কখনো ঘুমের অভাব বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার কারণে বেশি চুল পড়তে পারে| আবার বংশগত বহুবিধ সমস্যার কারণেও অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে| এর মধ্যে ৭টি কারণে বেশিরভাগ মানুষই চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন| বিষয়গুলো অনেকেরই অজানা| আসুন জেনে নেই কী কী সেই কারণ-
>> বেশিরভাগ নারীই চুল স্ট্রেট বা কার্ল করাতে অতিরিক্ত তাপ দেন| এ ছাড়া ˆদনিক চুলে হিট দেওয়ার কারণে চুলের কেরাটিনের ক্ষতি হয়| ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে যায়|
>> চুল খুব বেশি আঁটসাঁট করে বাঁধার কারণে এর ফলিকলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়| ফলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে| কখনো কখনো এটি ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়াও হতে পারে, এ সমস্যার কারণে নতুন চুল গজায় না| তাই চুলের স্টাইল পরিবর্তন করতে হবে|
>> মাথার ত্বকে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ও গরম পানি অনেকেই ব্যবহার করেন| তবে এগুলো একেবারেই ভুল কাজ| মাথার ত্বকে সব সময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়| আবার অত্যধিক শ্যাম্পু করাও চুলের জন্য ক্ষতিকর| এতে মাথার ত্বকে বেশি তেল ˆতরি হয়, যা চুল পড়ার সমস্যা বাড়ায়|
>> শুধু প্রয়োজন হলেই চুল আঁচড়ান| অতিরিক্ত চুল আঁচড়াবেন না কখনো| ভেজা চুলের জন্য একটি চওড়া চিরুনি ও শুষ্ক চুলের জন্য ব্রিসলস ব্যবহার করুন|
>> নিয়মিত চুল ট্রিম করুন| প্রতি ৬-৮ সপ্তাহ অন্তর চুল ট্রিম করলে দ্রুত ল¤^া হয়| গাছের যেমন ছাঁটাই প্রয়োজন, তেমনি আমাদের চুল ছাঁটাই প্রয়োজন|
>> সালফেটস, প্যারাবেনস ও অ্যালকোহলযুক্ত চুলের পণ্য ব্যবহার করবেন না| এমন ধরনের প্রসাধনীর কারণেই বেশিরভাগ মানুষের চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়| অর্গানিক পণ্য ব্যবহার করুন চুলের যত্নে|
>> বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে সবাই স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন| স্ট্রেস বাড়লে কর্টিসল হরমোন নিঃসরণও বেড়ে যায়| এতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় ও চুলের বৃদ্ধিও কমে যায়|
চুল পড়া রোধে করণীয়
বাজারচলতি প্রসাধনী নাকি ঘরোয়া টোটকা, চুল ঝরার পরিমাণ কিসে কমবে, তা বুঝতে পারেন না অনেকেই| চুল উঠতে উঠতে অনেক সময় টাক পড়ে যায়| তাই চুল পাতলা হতে শুরু করলেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি| খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে অনেক কিছুই| তাই চুল পড়া থামাতে রোজ পাতে রাখতে পারেন কয়েকটি খাবার|
ডিম
অত্যধিক পরিমাণে চুল পড়ছে? রোজ একটি করে ডিম খেতে পারেন| উপকার পাবেন| ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি, যা চুল ল¤^া ও ঘন করতে সাহায্য করে| তা ছাড়া ডিমে রয়েছে ভরপুর প্রোটিন, বায়োটিন যা চুলের গোড়া শক্ত করে|
মাছ
চুল ভালো রাখতে মাছ খাওয়া জরুরি| কারণ মাছে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যেগুলো চুল ভালো রাখে| ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড তার মধ্যে অন্যতম| এ ছাড়া মাছে রয়েছে ভিটামিন বি১২, যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে|
দুগ্ধজাত খাবার
দুধ খেলে ভালো থাকে হাড়| কারণ এতে ভরপুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম রয়েছে| এই ক্যালশিয়াম কিন্তু চুল ঝরার পরিমাণও রোধ করতে পারে| ক্যালশিয়াম ছাড়াও দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে বায়োটিন, যা চুল ঘন করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে|
ডাল
বিভিন্ন প্রকারের ডাল চুলের জন্য ভালো| ডালে রয়েছে উপকারী ¯^াস্থ্য উপাদান ভিটামিন বি| এ ছাড়া ফোলেট এবং অন্যান্য উপাদানও আছে| চুল ল¤^া করতে চাইলে রোজ পাতে রাখতে হবে ডাল|
বাদাম এবং বিভিন্ন বীজ
কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া, তিসির বীজ- এই ধরনের খাবারগুলো নিয়ম করে খেলে চুল ঝরার পরিমাণ কমে| এই খাবারগুলোতে রয়েছে বায়োটিন ও ভিটামিন বি, যা শুধু চুল পড়া কমায় এবং চুল মসৃণ করে|