শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 07, 2026
November 07, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও বার বার প্রস্রাবে সংক্রমণ? জেনে নিন কারণ

Published: November 07, 2026 at 12:17 PM
অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও বার বার প্রস্রাবে সংক্রমণ? জেনে নিন কারণ

প্রস্রাবের সময়ে জ্বালা, ঘন ঘন শৌচাগারে যাওয়া, অল্প অল্প করে প্রস্রাব হওয়া— অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও কিছু দীন পর ফিরছে সমস্যা? বার বার ইউটিআই হলে সংক্রমণের নেপথ্যে থাকা কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। বার বার প্রস্রাবে সংক্রমণ বা ইউটিআইয়ের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। অ্যান্টিবায়োটিক খেলে সাময়িক ভাবে উপসর্গ কমে যায়। কিন্তু কিছু দীন পরেই আবার ফিরে আসে প্রস্রাবে জ্বালা, ব্যথা কিংবা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ। চিকিৎসকদের মতে, এমন সমস্যা বার বার হলে শুধু অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভর না করে সংক্রমণের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। প্রস্রাবের সময়ে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, অল্প অল্প করে বার বার প্রস্রাব হওয়া, তলপেটে ব্যথা ইউটিআইয়ের সাধারণ লক্ষণ। কারও কারও ক্ষেত্রে জ্বরও হতে পারে। বার বার সংক্রমণ হলে এই কয়েকটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি-


১. ইউরিন রুটিন ও ইউরিন কালচার: ইউটিআই নির্ণয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এটি। ইউরিন রুটিন পরীক্ষায় প্রস্রাবে পাস সেল, গ্লুকোজ বা নাইট্রাইটের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। অন্য দিকে, ইউরিন কালচারের মাধ্যমে সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাক্টেরিয়া শনাক্ত করা যায়। কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হবে, তা বুঝতেও এই পরীক্ষা সাহায্য করে। সাধারণত রিপোর্ট পেতে তিন থেকে পাঁচ দীন সময় লাগে। অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগে নমুনা দিলে পরীক্ষার ফল বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।


২. ব্লাড সুগার বা এইচবিএ১সি: ডায়াবিটিস থাকলে ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে না। তাই বার বার প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।


৩. ইউএসজি কেবিইউ: কিডনি, ইউরেটার ও মূত্রথলির আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্রাবের পথে পাথর বা অন্য কোনও বাধা রয়েছে কি না, তা বোঝা যায়। প্রস্রাব করার পরেও মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমে থাকছে কি না, সেটিও এই পরীক্ষায় ধরা পড়তে পারে। মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।


৪. সিরাম ক্রিয়েটিনিন: কিডনি কতটা স্বাভাবিক ভাবে কাজ করছে, তা বোঝার জন্য এই রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে প্রস্রাবের সংক্রমণের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই বার বার ইউটিআই হলে চিকিৎসক এই পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।


৫. বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষা: পুরুষদের বার বার ইউটিআই হলে প্রস্টেটের কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। যৌনবাহিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে সেই সংক্রান্ত পরীক্ষাও করাতে হতে পারে। আবার প্রস্রাবের সঙ্গে বার বার রক্ত বেরোলে কিংবা মূত্রনালিতে পাথর থাকার সন্দেহ হলে চিকিৎসক সিটি কেবিইউ বা সিস্টোস্কোপি করার পরামর্শ দিতে পারেন।


তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে পাঁচটি পরীক্ষাই করানোর প্রয়োজন হয় না। বয়স, উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও সংক্রমণের ইতিহাস বিচার করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বেছে নেবেন। বার বার নিজের ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি। জ্বর, কাঁপুনি বা কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা করানো উচিত।