শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 07, 2026
November 07, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন, সঙ্গে যেসব খাবার খাবেন

Published: November 07, 2026 at 12:16 PM
অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন, সঙ্গে যেসব খাবার খাবেন

সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা সামান্য সংক্রমণ হলেই অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে শুরু করেন। অথচ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকেও সংক্রমণ সারানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হলেও কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। কারণ সংক্রমণের জীবাণু ধ্বংস করার পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, বমিভাব কিংবা হজমের সমস্যা। তাই অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন পেটের সুস্থতা বজায় রাখতে মেনে চলুন পরামর্শ।


অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পেটের সমস্যা হয় কেন?

আমাদের অন্ত্রে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা খাবার হজম, পুষ্টি শোষণ এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এই জীবাণুগুলোর সম্মিলিত পরিবেশকে বলা হয় অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম। অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়াকেও ধ্বংস করতে পারে। ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ডায়রিয়া বা অন্যান্য পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রের এই ভারসাম্য বজায় রাখতে অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।


প্রিবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার খান

প্রিবায়োটিক হলো এমন কিছু উপাদান, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এগুলো ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন খাবারের তালিকায় প্রিবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে রসুন, পেঁয়াজ, কলা, ওটস এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উপকারী হতে পারে। তবে পেটের সমস্যা বেশি থাকলে কোন খাবার আপনার জন্য উপযুক্ত, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।


ডায়েটে রাখুন প্রোবায়োটিক খাবার

প্রিবায়োটিকের পাশাপাশি প্রোবায়োটিক খাবারও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। প্রোবায়োটিক হলো জীবিত উপকারী অণুজীব, যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। টক দই, ঘোল এবং কিমচির মতো ফার্মেন্টেড খাবারে প্রোবায়োটিক থাকতে পারে। তবে সব ফার্মেন্টেড খাবারেই পর্যাপ্ত জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে না। অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট খেতে চাইলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক গ্রহণের মধ্যে সময়ের ব্যবধান রাখারও প্রয়োজন হতে পারে।


রঙিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান

প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি রাখুন। গাজর, পালংশাক, ব্রকলি, পেঁপে, আপেলসহ নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকে ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার। ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় ডায়রিয়া বা পেটের অস্বস্তি হলে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ফাইবার খাওয়া ঠিক নয়। শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করুন।


প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান

অন্ত্রের সুস্থতা শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, বাগান করা কিংবা বাইরে হাঁটার মতো কাজ পরিবেশের বিভিন্ন অণুজীবের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি করে।বাইরে সময় কাটানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি।


চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করবেন না

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা। নিজের ইচ্ছায় ওষুধের মাত্রা কমানো, বাড়ানো কিংবা কোর্স বন্ধ করা উচিত নয়। আবার চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দীর্ঘদিন খাওয়াও ঠিক নয়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন ডায়রিয়া হলে পর্যাপ্ত তরল পান করুন। তবে ডায়রিয়া তীব্র হলে, পায়খানায় রক্ত দেখা গেলে, জ্বর বা পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। মনে রাখবেন, অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রমণ সারাতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সঠিক ব্যবহার এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের যত্ন-দুটিই সমান জরুরি।