সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
অ্যানফিল্ডে ১৪ বছর পর লিভারপুলকে হারাল আর্সেনাল ব্রিটিশ নাগরিকত্বে আফগান লিগে নাম লেখালেন আমির বাংলাদেশ সিরিজের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা দিলো দ. আফ্রিকা চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সার নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ শুনলেন এমপি বুলবুল : দিলেন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের কমিউনিটি সংলাপ নাচোলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ : নাচোলে ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
Printed on: November 02, 2026
November 02, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

বাসার দরজা-জানলা বন্ধ রাখার পরও যে কারণে জমছে ধুলা

Published: November 02, 2026 at 12:44 PM
বাসার দরজা-জানলা বন্ধ রাখার পরও যে কারণে জমছে ধুলা

রাস্তার পাশে বাড়ি হলে ধুলাবালির সমস্যা বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাস্তা থেকে দূরে থাকা বাড়িতেও অনেক সময় একই সমস্যা দেখা যায়। জানলা-দরজা বন্ধ রাখার পরও মেঝে, সোফা, টেবিল কিংবা তাকের ওপর জমে থাকে ধুলার আস্তরণ। পরিষ্কার করার কিছুক্ষণ পরেই আবার ধুলো জমতে শুরু করে। তখন অনেকেই বুঝতে পারেন না, বাইরে থেকে ধুলো ঢোকার পথ বন্ধ থাকার পরও ঘর নোংরা হচ্ছে কেন। আসলে ঘরের ধুলার সবটাই বাইরে থেকে আসে না। ঘরের ভেতরে থাকা নানা জিনিস থেকেও তৈরি হয় ধুলা। পর্দা, বিছানার চাদর, সোফা, গালিচা, বইয়ের তাক এমনকি আসবাবের ফাঁকেও জমে থাকে ধুলার কণা। পরে বাতাসের সঙ্গে সেগুলো ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঘর পরিষ্কার রাখতে হলে শুধু মেঝে ঝাড়ু দিলেই হবে না, ধুলা জমার উৎসগুলোও খুঁজে বের করতে হবে।


সোফা, তোশক ও গালিচার তন্তু

সোফা, তোশক, কোলবালিশ, পর্দা ও মেঝেতে পাতা গালিচা থেকে অতি সূক্ষ্ম তন্তু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পুরোনো কাপড় বা ফোমের জিনিস থেকে ছোট ছোট কণা বের হতে পারে। এ ছাড়া বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও কাপড় থেকেও তন্তু ঝরে। নিয়মিত এগুলো পরিষ্কার না করলে ঘরের ধুলা বাড়তে পারে।


শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা এসি ঘরের বাতাসকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি বাতাস চলাচলেও ভূমিকা রাখে। ঘরের ভেতরে আগে থেকেই থাকা ধুলার কণা বাতাসের সঙ্গে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।


আসবাবের নকশা ও খোলা তাক

ঘরের আসবাবেও ধুলা জমার সুযোগ থাকে। বিশেষ করে নকশাদার কাঠের আসবাব, খোলা বইয়ের তাক, দেয়ালে ঝোলানো তাক কিংবা সাজানোর সামগ্রীর ফাঁকে ফাঁকে ধুলা আটকে যায়। এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধুলার স্তর তৈরি হয়।


বাইরে থেকে আসা ধুলাবালি

জানলা-দরজা বন্ধ থাকলেও ঘরে ধুলা ঢোকার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয় না। দরজার নিচের ফাঁক, জানলার পাশের ফাঁক কিংবা বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে ধুলা প্রবেশ করতে পারে। জুতা, পোশাক, বাজারের ব্যাগ ও পোষা প্রাণীর লোমের সঙ্গেও বাইরে থেকে ধুলা ঘরে আসে। তাই ঘরের ভেতরে ধুলা কমাতে প্রবেশপথগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে।


ঘরের ধুলা কমাবেন যেভাবে-

সহজে ধোয়া যায় এমন কাপড় ব্যবহার করুন

পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও সোফার কভার নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। এমন কাপড় বেছে নিন, যেগুলো সহজে ধোয়া যায় এবং তাতে ধুলা আটকে থাকলেও পরিষ্কার করা কঠিন নয়। ভারী ও অতিরিক্ত পুরু পর্দায় ধুলা বেশি জমতে পারে, তাই সেগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।


ছিমছাম নকশার আসবাব বেছে নিন

অতিরিক্ত কারুকাজ করা আসবাবের খাঁজে ধুলা জমে। তাই সহজে মোছা যায় এমন আসবাব ব্যবহার করুন। খোলা তাকে সাজানোর সামগ্রী না রেখে কাচের দরজাযুক্ত আলমারিতে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। এতে জিনিসপত্রের ওপর সরাসরি ধুলা জমার সুযোগ কমে।


সঠিকভাবে ঝাড়ামোছা করুন

শুকনো ঝাড়ন বা কাপড় দিয়ে আসবাব ঝাড়লে ধুলা বাতাসে উড়ে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শুকনো ঝাড়নের বদলে সামান্য ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে আসবাব, তাক ও টেবিল মুছুন। প্রথমে ওপরের দিকের আসবাব পরিষ্কার করুন, তারপর মেঝে পরিষ্কার করুন। এতে ওপর থেকে ঝরে পড়া ধুলাও পরে সরানো যাবে।


ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন

সোফা, গালিচা, তোশক ও ঘরের কোণে জমে থাকা ধুলা পরিষ্কারে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কাজে আসে। সম্ভব হলে ভালো মানের ফিল্টারযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করুন। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম করলে কাপড় ও গালিচার ভেতরে আটকে থাকা ধুলা সরানো সহজ হয়।


ঘরে ঢোকার সময় সতর্ক থাকুন

ঘরে ঢোকার আগে জুতা খুলে রাখুন। দরজার সামনে ডোরম্যাট ব্যবহার করুন এবং সেটিও নিয়মিত পরিষ্কার করুন। দরজা ও জানলার নিচের ফাঁক থাকলে তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন। পোষা প্রাণী থাকলে তাদের লোমও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।


ঘর পরিষ্কার রাখার জন্য প্রতিদিন বড়সড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ধুলা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শুধু চোখে পড়া ময়লা পরিষ্কার করা নয়, বরং ধুলা তৈরি ও জমার উৎসগুলোও নিয়ন্ত্রণে রাখা।