বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 14, 2026
October 14, 2026
জাতীয়
জাতীয়

উপজেলা পর্যায়েও বিস্তৃত হবে সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: October 14, 2026 at 12:28 PM
উপজেলা পর্যায়েও বিস্তৃত  হবে সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে সারাদেশে কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ, পরীক্ষালব্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ প্রত্যয়ন প্রয়োজন হয়। অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় যুগের ও সময়ের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নবনির্মিত ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ ভবন ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত  কিম জি-ঝুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি (হেড কোয়ার্টার) সরদার নুরুল আমিন এবং অতিরিক্ত আইজিপি (সিআইডি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মুহাম্মদ শওকত আলী, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। ডিজিটাল জগতে সাইবার পরিসর ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো অর্থনৈতিক অপরাধও হচ্ছে এই সাইবার পরিসরের মাধ্যমে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, শুরু থেকেই পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী গত ১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এ ইউনিট কাজ করছে। আজ উদ্বোধন করা ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কারণ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাইবার পুলিশ ইউনিটের পরীক্ষাগার সুবিধা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরীক্ষাগার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব হিসেবে কাজ করবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিআইডি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই রাসায়নিক পরীক্ষাগার পরিচালনা করে আসছে। সেখানে ভিসেরাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সময়ের প্রয়োজনে এসব পরীক্ষাগারের সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চট্টগ্রামে উদ্বোধন করা ভবন ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপনে কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সরকার এবং কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কইকা) সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। এজন্য কোরিয়া সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত, কইকার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কোরিয়া থেকে আসা সফরকারী দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ বন্ধ ও প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমানভাবে সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষে পরীক্ষাগারের সুযোগ-সুবিধা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত ও তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারের পাশাপাশি আর্থিক প্রতারণা, অবৈধ লেনদেন এবং অর্থের উৎস গোপন করার প্রবণতাও বাড়ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি, এনক্রিপ্টেড ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক হিসাব, ভুয়া পরিচয় এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে অপরাধীরা অর্থের প্রকৃত মালিকানা ও লেনদেনের গতিপথ আড়াল করার চেষ্টা করছে। এছাড়া ডার্কওয়েব ও অন্যান্য গোপন অনলাইন নেটওয়ার্কের অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদক ও অবৈধ পণ্য কেনাবেচা, চুরি করা তথ্যের লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে। এ বাস্তবতায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি, ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।