শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আজ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : জেলা পরিষদ আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৯৬ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১২ শিশু হাসপাতালে রামেকে চলতি বছরে মারা যাওয়া ১৩ ডেঙ্গু রোগীর ৫ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এডিস মশা নিধনে অভিযান অব্যাহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সংলাপ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ পলশা মিস্ত্রিপাড়া জামে মসজিদ : ‘৪০ দিন’ নামাজ বাস্তবায়ন কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ
Printed on: September 26, 2026
September 26, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আজ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : জেলা পরিষদ আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

Published: September 26, 2026 at 02:14 PM
ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আজ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : জেলা পরিষদ আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী




জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি বলেছেন, একটি ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সকল ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তারা শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামোসহ সকল কিছু ধ্বংস করে দেয়। সেই ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আজ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৫১ শতাংশ লোক ভোট দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আজ আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি যেদিন থেকে দায়িত্ব পেয়েছেন, সেদিন থেকেই সকাল ৯টা থেকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত অফিস করছেন। প্রতিটি বিষয়কে তিনি অ্যাড্রেস করছেন। যেভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষা ও মেয়েদের অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, একইভাবে তারেক রহমান প্রথমেই শুরু করেন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। অর্থাৎ নারীর ক্ষমতায়ন এবং মেয়েদেরকে যাতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, তাদের কাছে যাতে অর্থ যায় এবং অর্থ থাকলেই তিনি ইচ্ছেমতো বিনিয়োগ করতে পারেন, ব্যয় করতে পারেন। এরপরই তিনি কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সকল নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা নিম্নআয়ের মানুষ, গ্রামের মানুষ, যারা বস্তিবাসী তাদেরকে আর্থিকভাবে কীভাবে সচ্ছল করা যায়, তাদের জীবনের যে চাহিদা এবং রাষ্ট্রের সম্পদ কীভাবে সুষম বণ্টন করা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চিন্তাভাবনা করে যাচ্ছেন। 

গতকাল শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের আয়োজনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন— রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন। প্রতিক্রয়া ব্যক্ত করেন হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া আব্দুল ওয়াজেদ আব্দুল্লাহ ও গোমস্তাপুর উপজেলার আলীনগর স্কুল ও কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া নওসীন আতিয়া। 

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আজকে মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করা হয়েছে এবং ছেলেদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্মুক্ত করা হয়েছে, ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছেলেরা যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী হয় সেজন্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। ছেলে-মেয়েরা যাতে কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না যায় সেদিকে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন, একটি সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একই ধরনের পোশাক দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে বৈষম্যহীনভাবে ছেলে-মেয়েরা বেড়ে উঠতে পারে। প্রতিটি খেলার মাঠকে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। স্পোর্স্টস ভিলেজ করা হচ্ছে, উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা দেয়া হবে। যেন ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলার সুযোগ পায়। 

প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, কীভাবে নদীতে পানি ধরে রাখা যায়, কৃষিতে উন্নয়ন করা যায়, সে চিন্তাভাবনা চলছে। এখানে (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) আমসহ অন্যান্য অনেক ফল উৎপাদন হয়। তাই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তেলার জন্য প্রচেষ্টা চলছে— এসব ফল বা ফসলকে কীভাবে প্রক্রিয়াজাত ও স্টোরেজ করে ক্ষতির হাত থেকে কৃষককে বাঁচানো এবং আর্থিকভাবে লাভবান করা যায়। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলের ফসল সংরক্ষণ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। 

জ্বালানি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির কিছু সংকট দেখা দিয়েছিল। এখন তা কাটিয়ে উঠছে। তিনি বলেন, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। বিতরণে যে সমস্যা ছিল তা সমাধান করা হয়েছে। 

খাদ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন— নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমরা অতিরিক্ত ধান সংগ্রহ করেছি। আমাদের খাদ্য চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। আমাদের সংগ্রহে আছে ২৫ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। চলতি বছর চাল আমদানির অনুমোতি আমরা দেয়নি। ধারণা, এ বছর চাল আমদানির হয়তো প্রয়োজন হবে না। কারণ, আর মাত্র এক মাস পর ব্যাপকভাবে ধান উঠবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন— তোমরা জীবনের একটি ধাপ পার হয়েছ। আরো অনেক দূর তোমাদের যেতে হবে। এইচইসসি পাস করার পর তোমরা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউবা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার কেউবা মেডিকেলে ভর্তি হবে। এইসময় তোমাদেরকে নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন বদলানোর একটি মাত্র উপায় হচ্ছে শিক্ষা। তিনি বলেন, আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তখন দেখেছি এই চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেক শিক্ষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন। এই জেলার অনেক মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় জায়গায় রয়েছেন। 

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমসন্ত্রী বলেন, সৎ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদায়নের মাধ্যমে অতীত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর প্রশাসন সচল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এ সরকার ভঙ্গুর একটি প্রশাসন পেয়েছিল। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই সৎ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রশাসন সচল হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রশাসন আরো শক্তিশালী হবে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে এরই মধ্যে তাদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করে দেয়া হয়েছে।

অতীত সরকারগুলোর ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই বিদ্যুৎ সংকট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, অনেকগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানির উৎস ঠিক করা হয়নি। এমনকি অতীতের সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে এখন পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে আনা যায়নি।। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এধরনের উদ্যোগের জন্য জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এবারের এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসে জেলা প্রশাসক চত্বরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় যোগ দেন তিনি।