আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচ বিভাগে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ উদ্যোগে এ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
শিশু স্বাস্থ্য সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ‘আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচ বিভাগীয় ও জেলাশহরে নবনির্মিত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে।’
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্কে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্য (পেডিয়াট্রিকস), মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি- এই চার মূল বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এম এ মুহিত বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান ক্যাম্পেইনে সময়মতো উদ্যোগ না নেয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে ইমিউনিটির ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই ফল আজকের এই মহামারি। হাজারটা ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ বেড বসিয়ে এই মৃত্যুর ঢল থামানো যাবে না। প্রতিরোধ এবং টিকাদানই এর একমাত্র সমাধান।
অবাস্তব আশ্বাসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ালেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তবে এ সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের কথা জানিয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে খুব দ্রুত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। সংকট কাটাতে শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।
অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল ফলাফল ও তথ্য-উপাত্ত যৌথভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বি-র ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।