মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
বই আলোচনা : আগামী দিনের পথ চলার পাথেয় শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে প্রতি মাসে ৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাবেন পুলিশ সুপার গোমস্তাপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা : রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী :মাঠে ছিল বিএনপি মাদককে লাল কার্ড দেখালেন হামিদুল্লাহর শিক্ষার্থীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু সুরক্ষার লক্ষে মতবিনিময় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বাজার সংযোগ বিষয়ক আবাসিক প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে পানি সংকট মোকাবেলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি ও পদায়নে চার স্তরের কমিটি গঠন আইসিসির মাস সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হলেন মুশফিক
Printed on: June 23, 2026
April 24, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে : জাতিসংঘ

Published: April 24, 2026 at 06:21 PM
শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে : জাতিসংঘ

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেক শিশু নিয়মিত টিকা নিতে পারেনি। সেই ঘাটতি পূরণে তিন বছর ধরে একটি বৈশ্বিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে জাতিসংঘ। এর মাধ্যমে ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকাদানের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য এখন পূরণের পথে রয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারী স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে হাম ও পোলিওর মতো সংক্রামক রোগ ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), শিশু সংস্থা ইউনিসেফ এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিগ ক্যাচ-আপ’ নামের এই কর্মসূচি ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণের পথে রয়েছে। গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে এই টিকাদান কর্মসূচি। তবে এখনও চূড়ান্ত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকা ও এশিয়ার ৩৬টি দেশে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী আনুমানিক এক কোটি ৮৩ লাখ শিশুকে ১০ কোটিরও বেশি ডোজ জীবনরক্ষাকারী টিকা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ শিশু আগে কোনো টিকাই পায়নি। আর প্রায় দেড় কোটি শিশু আগে কখনও হামের টিকা নেয়নি। এই উদ্যোগ অনেক দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকেও আরও উন্নত করেছে বলে সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এর মাধ্যমে টিকা থেকে বাদ পড়া তুলনামূলক বড় শিশুদের শনাক্ত করাও সহজ হয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, কোভিড-১৯-এর কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বিঘœ ঘটায় যেসব শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তাদের সুরক্ষার মাধ্যমে এই কর্মসূচি মহামারির অন্যতম বড় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। টিকাবিরোধী প্রচারণা তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয় বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। তাদের তথ্যমতে, টিকা নিয়ে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের প্রবণতা বাড়ছে।

একইসঙ্গে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায়ও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। সংস্থাগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়মিত টিকাদানে দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখন স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।আগে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার বেশি ছিল, সেখানেও টিকার প্রতি আস্থা কমে গেছে। যে কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন বিষয়ক পরিচালক কেট ও’ব্রায়েন সাংবাদিকদের বলেন, টিকার বিষয়ে অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরে। তবে সকলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, টিকা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে রাজনৈতিকীকরণ বাড়ছে। গ্যাভির প্রধান নির্বাহী সানিয়া নিশতার বলেন, ‘আমরা এমন একটি সামাজিক মাধ্যমের বিরুদ্ধে লড়ছি যেখানে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ারও প্রণোদনা রয়েছে। বিষয়টি কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ঘৃণা, বিভ্রান্তি ও মিথ্যা তথ্যকে উৎসাহিত করে। ভালো কোনো তথ্য প্রচার করলেও তা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না বলেও মন্তব্য করেন। ইউনিসেফের টিকাদানবিষয়ক গ্লোবাল প্রধান এফ্রেম লেমাঙ্গো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমগুলো সাধারণত সঠিকতার চেয়ে উত্তেজনা বা বিতর্ককে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে ভ্যাকসিনবিরোধী কনটেন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এটিকে ঘিরে এক ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামোও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’ অন্যদিকে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে তহবিল সংকোচনের কারণে টিকাদান সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে দীর্ঘদিনের অর্জিত অগ্রগতি উল্টে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘসময় ধরে অর্জিত অগ্রগতিকে বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ আগে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছিল, তা পিছিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দেন।