সর্বশেষ অ্যাশেজে উসমান খাজার বদলি হিসেবে ওপেনিংয়ে নেমে সেখানেই নিজের জায়গাটা পাকা করে ফেলেছিলেন ট্রাভিস হেড। পার্থ টেস্টে রান তাড়া করতে গিয়ে ৮৩ বলে ১২৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন হেড। এরপর থেকে যেন ওপেনার বনে যান হেড। অ্যাশেজের সর্বশেষ সিরিজে ৮৭.৩৬ স্ট্রাইকরেটে তুলেছেন ৬২৯ রান। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ৩টি। ইংলিশদের বাজবলকে গুঁড়িয়ে জয় হয়েছে ট্রাভিস হেডের ‘ট্র্যাভবলের’। আসন্ন বাংলাদেশ সিরিজেও কি ওপেনিংয়ে দেখা যাবে ট্রাভিস হেডকে। সামনে বেশ ব্যস্ত সূচি অস্ট্রেলিয়ার। আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে আরও ২১ টেস্ট বাকি আছে অজিদের। ফাইনালে যেতে পারলে ২২ টেস্ট খেলতে হবে। সব ম্যাচের জন্যই মুখিয়ে আছেন হেড। দলের জন্য অবদান রাখতে ওপেনিংয়ে খেলে যেতেও সমস্যা নেই হেডের। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে হেড জানিয়েছেন, ‘সঠিক পরিসংখ্যান আমি জানি না, তবে আমি কতগুলো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছি?
১৭০, ১৮০ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়তো। এর মধ্যে মনে হয় ১০টি (আসলে ১২টি) ম্যাচে আমি ওপেন করেছি। আমি মনে করি, এতে বোঝা যায় যে, আমি একজন ওপেনিং ব্যাটার নই, সত্যিকারের ওপেনিং ব্যাটার নই, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে যেভাবে ওপেনিং ব্যাটারদের চেনা হয়, সেই অর্থে। যারা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে ওপেনিং করে উঠে এসেছে, রাজ্য ক্রিকেটে ওপেনিং করেছে এবং টেস্ট ক্রিকেটেও ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে খেলেছে।’ উসমান খাজার অবসরের পর থেকে ওপেনিং নিয়ে চিন্তার ভাঁজ অজিদের কপালে। স্যাম কনস্টাস অভিষেকে ফিফটি হাঁকালেও সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। অনেককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সুযোগ দেওয়া হলেও কমবেশি সবাই হতাশ করেছেন। হেডই কেবল সুযোগটা লুফে নিয়েছেন। ট্রাভিস হেডের মতে, ‘আমি মনে করি, আমার খেলার ধরন ভালো খেলার জন্য উপযোগী। আমি মনে করি, দলে টপ অর্ডারে ব্যাট করে আমি একটা ভূমিকা পালন করতে পারি।
আমি উপরে ব্যাট করছি, কিন্তু তা আসলে সত্যিকারের ওপেনিং ব্যাটারদের মত করে নয়, যদি কথাটা এভাবে বোঝানো যায়। আমি জানি, নতুন বলের বিপক্ষে আমাকে নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। আমি জানি, আমি ভুল করব, তাতে সমস্যা নেই। আমার খেলা এখন যে অবস্থায় আছে, তা নিয়ে আমি খুবই স্বস্তিতে আছি।’ হেড আরও জানিয়েছেন, ‘আমি সেঞ্চুরি করতে চাই, সবসময় রান করা ক্রিকেটারদের তালিকায় থাকতে চাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি শুধু টেস্ট ম্যাচ জয়ে অবদান রাখতে চাই। বছরের শুরুর দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বার্বাডোজ টেস্টের কথা মনে করি, যেখানে আমি দুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলতে পেরেছিলাম এবং কঠিন উইকেটে একটি টেস্ট ম্যাচ জিতেছিলাম। সেগুলো সেঞ্চুরির মতো দেখায়নি এবং পরিসংখ্যানের পাতাতেও হয়তো খুব ভালো দেখায়নি, কিন্তু আমি মনে করি, টেস্ট ম্যাচ জয়ে আমি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পেরেছিলাম।’ ওপেনিংয়ে নেমে অ্যাশেজে একদম কাঁপিয়ে দিয়েছেন ট্রাভিস হেড। দলও জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। দলকে জেতাতে পেরে বেশ খুশি হেড, ‘অ্যাশেজে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরে এবং ভালো পারফর্ম করতে পেরে আমি খুবই খুশি।
আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ক্যারিয়ারজুড়েই সবাই নিজেদের বিচার করে দেখে, অ্যাশেজে আপনি কতটা ভালো ছিলেন। তাই এ ধরনের পরিসংখ্যান দিতে পেরেছি, আসলে আমি এক মিলিয়ন বছরেও এমনটা করতে পারব বলে ভাবিনি, আবার একই সঙ্গে নিজের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশাও করেছিলাম। এ ব্যাপারে নিজেকে একটা কঠিন অবস্থানে রাখা হয়। তবে এ বছর আমরা অ্যাশেজ জিততে পেরেছি বলে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। দল যা চায় এবং যা প্রয়োজন, তা করতে পারলে আমি সবসময়ই খুশি থাকি। আমি শুধু প্রতিটি টেস্ট ম্যাচে দলের জন্য অবদান রাখতে চাই। আগামী ১০ মাসে আমাদের সামনে ২১টি টেস্টে তা করার অনেক সুযোগ রয়েছে। পারফরম্যান্স নিয়ে আমি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখি না বা কোনো নির্দিষ্ট প্রত্যাশাও করি না। আমি শুধু মাঠে গিয়ে নিজের ভূমিকা পালন করতে চাই, তা শুরুতেই দলের জন্য একটা ভিত্তি তৈরি করা হোক, বড় সেঞ্চুরি করা হোক কিংবা সিরিজের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য কিছু হোক।’ ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে দলকে ম্যাচ জেতানোতেই পুরো মনোযোগ ট্রাভিস হেডের। তাতে নিজের যেভাবে চেষ্টা করা প্রয়োজন সেভাবে করতে আপত্তি নেই তার।
হেড জানালেন, ‘আগামী ১২ মাসে আমরা অনেক ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে খেলব। সেখানে ভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। সবসময় হয়তো প্রচলিত ধরনের কিছু মনে হবে না। আমি শুধু এমন একটা ভূমিকা পালন করতে চাই, যা শেষ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ জয়ে (আমার দলকে) সাহায্য করবে। তাই এটা নিয়ে আমি খুবই স্বস্তিতে আছি যে, প্রতিদিন সবকিছু আমার পক্ষে কাজ করবে না। আমি প্রতিদিন পারফর্ম করতে পারব না। কিন্তু যখন পারব, তখন আমি আশা করি, তার অর্থ হবে আমরা ক্রিকেট ম্যাচ জিতছি।’ দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ সিরিজ। আগামী বৃহস্পতিবার ডারউইন টেস্ট দিয়ে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ।